মাঝে ছুটকো-ছাটকা কয়েক বছর বাদ দিলে প্রায় পাঁচ দশক ডবল ইঞ্জিন সরকারের 'ডবল' উন্নয়ন দেখার সুযোগ হয়নি বঙ্গবাসীর। ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এ বছর বঙ্গে পালাবদল হয়েছে। রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। যার সুফল মিলল প্রথম বছরের বাজেটেই (West Bengal Budget 2026)। আট লক্ষ কোটির বেশি দেনার বোঝা কাঁধে নিয়েও শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রথম বাজেটে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যেভাবে সমাজের প্রায় সমস্ত স্তরের মানুষের কথা মাথায় রেখে, উন্নয়নমুখী এবং জনমোহিনী বাজেট ঘোষণা করলেন, সেটা স্রেফ ডবল ইঞ্জিন সরকার বলেই সম্ভব।
SASCI অর্থাৎ স্কিম ফর স্পেশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেটস ফর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টের অধীনে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে সর্বতভাবে সাহায্য করবে ভারত সরকার। তাছাড়া ভারত সরকারের পূর্বোদয় প্রকল্প এর মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর, ম্যানুফ্যাকচারিং হাব, পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নতি হবে। দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবাসীর আক্ষেপ, এত বড় রাজ্যে মোটামুটি চলনসই বিমানবন্দর মোটে গোটা চারেক। এবার সেই সংখ্যাটা অনেকটা বাড়বে।
লাগাতার অন্ধ কেন্দ্র বিরোধিতার জেরে বিগত বছরগুলিতে শুধু যে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পগুলি থেকে বাংলা বঞ্চিত হচ্ছিল তাই নয়, একই সঙ্গে কেন্দ্রকে টেক্কা দেওয়ার চক্করে সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যয়ে রাজ্য সরকার বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী প্রকল্পও চালানোর চেষ্টা করছিল। যার ফলশ্রুতিতে রাস্তাঘাট, অন্যান্য পরিকাঠামো, সরকারি কর্মীদের ডিএ-র মতো অত্যাবশকীয় এবং বুনিয়াদি সমস্যার সমাধান আটকে যাচ্ছিল। কিন্তু এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফলে শুধু যে বাংলায় নতুন করে একাধিক কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমুখী প্রকল্প কার্যকর হল তাই নয়, সেই সঙ্গে পরিকাঠামো খাতেও আমূল বদলের সূত্রপাত হয়ে গেল।
বাজেট পেশ করার পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী। নিজস্ব চিত্র
এদিন রাজ্য বাজেটে (West Bengal Budget 2026) অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, SASCI অর্থাৎ স্কিম ফর স্পেশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেটস ফর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টের অধীনে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে সর্বতভাবে সাহায্য করবে ভারত সরকার। তাছাড়া ভারত সরকারের পূর্বোদয় প্রকল্পের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর, ম্যানুফ্যাকচারিং হাব, পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নতি হবে। দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবাসীর আক্ষেপ, এত বড় রাজ্যে মোটামুটি চলনসই বিমানবন্দর মোটে গোটা চারেক। এবার সেই সংখ্যাটা অনেকটা বাড়বে। কেন্দ্রের UDAN প্রকল্পের অধীনে পুরুলিয়া, বালুরঘাট, মালদহে নতুন বিমানবন্দর তৈরি হবে। কোচবিহারের বর্তমান বিমানবন্দরও সম্প্রসারণ হবে। কলকাতা বিমানবন্দরের উপর চাপ কমাতে কল্যাণীতে নয়া বিমানবন্দর তৈরি করা হবে। এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের আরও ৩ শহরে মেট্রো পরিষেবা চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা যে রাজ্য সরকার করতে পারছে, সেটাও রেল মন্ত্রকের ভরসাতেই। আপাতত রাজ্য সরকার বিষয়টির টেকনো ইকোনমিক স্টাডি করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। ওই সমীক্ষা সম্পন্ন হলে মেট্রো নিয়ে সিদ্ধান্ত।
আগের সরকারের বিরোধিতার জেরে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ-আবাস যোজনার মতো মেগা যোজনা আটকে ছিল। উলটে নিজেদের খরচে ওই প্রকল্পগুলি চালাতে গিয়ে অন্য খাতের টাকা খরচ করত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই সব আটকে থাকা প্রকল্প এবার চালু হয়ে গেল। জি-রামজি অর্থাৎ ১২৫ দিনের কাজের জন্য নতুন বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা কার্যকর করতে ১৩ হাজার কোটি বরাদ্দ হয়েছে। এছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের জন্য মাত্রুবন্দনা প্রকল্পে ২১ হাজার টাকা করে এককালীন ও ৬টি পুষ্টি স্কিম। চা শ্রমিকদের জন্য পিএম চা শ্রমিক প্রোৎসাহন, আদিবাসীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুসূচিত জাতি অভ্যুদ্যয় যোজনার মতো বহু কেন্দ্রীয় যোজনা রাজ্যে চালু হচ্ছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা পাবেন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরাও। তাঁদের এক দেশ-এক রেশন কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডও।
নির্বাচনের আগে এবং পরে বারবার নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের মুখে সোনার বাংলা গড়ে দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছে। সেই বিকশিত বঙ্গ গড়ার লক্ষ্যে ডবল ইঞ্জিনের প্রথম বছরই বাজেটে যা যা ঘোষণা করা হয়েছে, তা এক কথায় অভাবনীয়। এই ধারা বজায় থাকলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলা পরিকাঠামোগত দিক থেকে এবং সার্বিক উন্নয়নের নিরিখে অনেকটা এগিয়ে যাবে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানিয়ে দিয়েছেন, যাবতীয় যা সাহায্য প্রয়োজন-সবকিছুর জন্য কেন্দ্র পাশে রয়েছে।
