দিন কয়েক আগে পর্যন্ত তিনিই ছিলেন দলের শেষ কথা। তাঁর ইশারা ছাড়া তৃণমূলে একটি পাতাও নড়ত না। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সনের পদ হারাতে চলেছেন! অন্তত এমনটাই দাবি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর দাবি, সোমবার তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশন ডেকে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠিত হয়েছে। সেই কমিটিতে দলের চেয়ারপার্সন হয়েছেন অরূপ রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। ঋতব্রতর দাবি, সবটাই হয়েছে নিয়ম মেনে।
এমনিতে কালীঘাট তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতি রয়েছে। সেটি কিছুদিন আগেই ঘোষিত হয়েছে। সেই কমিটির চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের আরও একাধিক কমিটি গঠন হয়েছে কালীঘাট থেকে। তবে ঋতব্রতর দাবি, ওই কমিটি বৈধ নয়। কোনও নিয়ম মেনে সেটি নির্বাচিত হয়নি। সবটাই হয়েছে ইচ্ছামতো যাকে-তাঁকে বসিয়ে দেওয়া। ঋতব্রত শিবির সূত্র বলছে, ২০২২ সালের পর নিয়ম মেনে তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশন ডেকে কর্মসমিতি বাছাই করাই হয়নি। ২০২২ সালে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেটির মেয়াদ শেষে হয়ে গিয়েছে ২০২৫-এই। তাই ওই কমিটির কোনও বৈধতা থাকতে পারে না।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এদিন বলেন, "আমরা আজ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পাহাড় থেকে সাগরের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা আজকের বিশেষ অধিবেশনে ছিলাম। এই অধিবেশনে এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে।" কী সিদ্ধান্ত? এবার থেকে তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতিতে ৩০ জন সদস্য থাকবেন, তাঁরাই রাজ্য কমিটি ঠিক করবেন। দলের চেয়ারপার্সন অরূপ রায়। চারজন সহ-সভাপতির তালিকায় ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা। ঋতব্রত নিজে সাধারণ সম্পাদক। তাছাড়া মঙ্গলবার থেকেই ঋতব্রতদের তরফে মুখপাত্রদের তালিকা দেওয়া হবে। তাঁরাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দলের পক্ষ রাখবেন। ঋতব্রতদের সাফ কথা, "আজকের যা যা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সবটা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হবে।" অর্থাৎ ঋতব্রত বকলমে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এবার মমতার গদি কাড়তে চান তাঁরা। সেটার জন্যই কমিশনের দ্বারস্থ হবে 'আসল তৃণমূল।'
তাহলে কি নতুন তৃণমূলে মমতার কোনও ভূমিকাই থাকবে না? ঋতব্রত সাফ বলে দিয়েছেন, "আমরা আগেই বলেছি উনি এসে আমাদের মার্গদর্শন করতে চাইলে স্বাগত। আমরা ওঁর পরামর্শে চলতে চাই।" যার অর্থ, মমতার নিজের দলে তাঁর ভূমিকা শুধু পরামর্শদাতা হিসাবে সীমাবদ্ধ থাকবে। যদিও ঋতব্রতদের এই দাবি মান্যতা পাবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত হবে আইনি লড়াইয়ে। ঋতব্রতর দাবি বৈধ নাকি মমতার কমিটি বৈধ সেই সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। সেটা বিরোধী দলনেতা নিজের বক্তব্যে স্পষ্টও করে দিয়েছেন।
