বাজেট (West Bengal Budget) অধিবেশনের সূচনা ভাষণে রাজ্য সরকারের ভূয়ষী প্রশংসা করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose)। জানালেন, রাজ্যের সাফল্য তিনি গর্বিত। বাজেট বক্তৃতার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ও করেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে তাঁর সঙ্গে কথাও বললেন। পরে বেরোনোর সময় তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীই বিধানসভার গেট পর্যন্ত এগিয়ে দেন।
বৃহস্পতিবার মমতার তৃতীয় দফার সরকারের শেষ বাজেট (West Bengal Budget)। দস্তুর হল, রাজ্যপালের বক্তৃতা দিয়েই বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। কিন্তু বোস বক্তৃতা শুরু করার আগে থেকেই শাসক এবং বিরোধী শিবিরের স্লোগান-পালটা স্লোগানে উত্তাল হয় বিধানসভা। অধিবেশনে জাতীয় সঙ্গীত শেষ হতেই ‘ভারত মাতা কী জয়’ ধ্বনি তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্লোগান দেয় বিজেপি পরিষদী দলও। পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলেন তৃণমূলের বিধায়কেরা। এসবের মাঝেই বিধানসভায় বক্তৃতা শুরু করেন বোস।
বিধানসভায় সংক্ষিপ্ত ভাষণেই বক্তৃতা শেষ করেন রাজ্যপাল। তাঁর ভাষণে রাজ্য সরকারের নানা কাজের কথা তুলে ধরেছেন। তবে তাঁর হাতে বক্তৃতার যে লিখিত অংশ (যা সাধারণত রাজ্য সরকারই লিখে দেয়) ছিল, তা পুরোটা পাঠ করেননি রাজ্যপাল। সূত্রের খবর, লিখিত বক্তৃতার প্রথম এবং শেষ পৃষ্ঠার কিছু অংশ পাঠ করেছেন। মেরেকেটে সাড়ে চার মিনিটের বক্তৃতা করেছেন বোস।
রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পুরোটা পাঠ না করায় তাঁকে অভিবাদন জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাততালি দিয়ে তাঁকে 'ওয়েল ডান' বলতেও শোনা গিয়েছে। পরে বিরোধী দলনেতা বলেন, "রাজ্যের তৈরির করা মিথ্যা ভাষণ পড়েননি রাজ্যপাল।"
বিধানসভায় নিজের ঘরে শুভেন্দু বলেন, ‘‘রাজ্যপাল প্রথম সাড়ে চার মিনিট পড়েছেন। সেখানে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের পাওনার কথা লেখা ছিল, কোনও অসুবিধা নেই। এর তথ্য আছে। কিন্তু তথ্য ছাড়া যেখানে মিথ্যা ভাষণ আছে, সেটা উনি পড়েননি।’’ শুভেন্দুর সংযোজন, ‘‘লেখা ছিল, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কেন্দ্রের জন্য হয়নি। এটা পুরোপুরি মিথ্যা। রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি। উনি মিথ্যা ভাষণ রাখেননি। ওঁর সাহস আছে। উনি উচিত কাজ করেছেন।’’
বিরোধী দলনেতার দাবি, ‘‘রাজ্যপাল যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওঁকে প্রশ্ন করেন, উনি কেন পড়বেন না? উত্তরে রাজ্যপাল ওঁকে দেখান কী লেখা আছে, সেই জন্য তিনি পড়বেন না। এর পরে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলেন, জাতীয় সঙ্গীত হবে। তাঁকে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। রীতি মেনে জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার পরে রাজ্যপাল বেরিয়ে যান।’’ শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমার পরিষদীয় রাজনীতির জীবনে এই ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। তামিলনাড়ুতে আগে হয়েছে। তার পরে এখানে হল। এটা কার্যত সরকারের লিখে দেওয়া বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করা।’’
