রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে চলা তৃতীয় সরকারের আজ, বৃহস্পতিবার শেষ অধিবেশন। আজ, ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট (WB Budget) পেশ হবে। দুপুর আড়াইটেয় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট পেশ করবেন। তা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য তার আগে বেলা সাড়ে বারোটায় ভাষণ দেবেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের ভাষণ ও বাজেট পেশ, দুই সময়েই বিধানসভায় থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
যদিও ভোট অন অ্যাকাউন্ট তবু বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘মা-মাটি-মানুষ সরকার’-এর এই বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ ‘সুখবর’ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলার বাড়ি, কৃষি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা থাকতে পারে তৃতীয় তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেটে।
শুধু তাই নয়, ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট হলেও সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশুদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ-সহ অন্যান্য বিষয়েও বাড়তি বরাদ্দের কথা থাকতে পারে চন্দ্রিমার ঘোষণায়। স্বভাবতই ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট’ হলেও বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল প্রত্যাশা যেমন সৃষ্টি হয়েছে তেমনই রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।
পরিষদীয় দপ্তর সূত্রে খবর, বাজেট পেশ হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরেই ক্যাবিনেট বৈঠক বসবে দুপুর দেড়টায়। সেখানেই ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট পাস হবে। এর পরই মন্ত্রিসভার শিল্পবিষয়ক হাই পাওয়ার কমিটির বৈঠক বসবে। তার পরই বেলা আড়াইটেয় ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট পেশ করবেন বাংলার প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা।
ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট হলেও সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশুদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ-সহ অন্যান্য বিষয়েও বাড়তি বরাদ্দের কথা থাকতে পারে চন্দ্রিমার ঘোষণায়। স্বভাবতই ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট’ হলেও বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল প্রত্যাশা যেমন সৃষ্টি হয়েছে তেমনই রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।
বিধানসভা সূত্রের খবর, পরদিন শুক্রবার এসআইআর ও সোমবার বিধানসভার শেষদিনে ভোট অন অ্যাকাউন্ট নিয়ে আলোচনায় সব মিলিয়ে তিনদিনই অধিবেশনে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভার সর্বদল ও কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে যোগ না দিলেও আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড ও গোলপার্কে বোমাবাজির ঘটনায় সোনা-পাপ্পুকে নিয়ে অধিবেশনে তুমুল বিক্ষোভ দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। পালটা প্রস্তুতি নিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও। তৃণমূল পরিষদীয় দল সূত্রে খবর, ২১৭ দলীয় বিধায়ককেই এই অধিবেশনে প্রতিদিনই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সভায় হাজির থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী দলীয় বিধায়কদের হাজিরা খাতা চেয়ে পাঠাতে পারেন বলেও খবর।
শুক্রবার সকাল ১১টায় এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের হেনস্তার ইস্যু নিয়ে পরিষদীয় রুলের ১৬৯ নম্বর মোশনে প্রস্তাব পেশ করবেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এক ঘণ্টার জন্য হলেও এসআইআর কেন্দ্রিক এই আলোচনায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিতে পারেন। এরপরই রাজ্যপালের ভাষণের উপর দু’ঘণ্টার বিতর্ক শুরু হবে। এরপর আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার ১ ঘণ্টার জন্য রাজ্য সরকারের পণ্য বিষয়ক একটি বিল নিয়েও আলোচনা হবে। শেষে ভোট অন অ্যাকাউন্ট নিয়ে দু’ঘণ্টার বিতর্ক চলবে। এই শেষদিনেও মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিতে পারেন।
