shono
Advertisement
STF

শুভেন্দুর 'বর্মে' ছিদ্র খোঁজাই কাজ ছিল হামিমের, নির্দেশ পাকিস্তান থেকে! বিস্ফোরক তথ্য এসটিএফের

'পাকিস্তানের হ্যান্ডলাররা হামিমের মগজধোলাই করেছিল', বললেন এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 04:22 PM Aug 01, 2026Updated: 05:18 PM Aug 01, 2026

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেট করে ধৃত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের পাক-যোগ নিশ্চিত করল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। শনিবার এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো বিস্ফোরক সমস্ত তথ্য তুলে ধরলেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই ছিল টার্গেট। দিনভর তাঁর গতিবিধির উপর নজরদারি রাখা ছিল হামিমের 'টাস্ক'। তাকে এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছিল পাক হ্যান্ডলাররা! এমনই তথ্য জানাল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। পাকিস্তানের 'শেহজাদ ভাট্টি' গ্যাংয়ের সঙ্গে তার যোগ ছিল। 

Advertisement

গৌরব শর্মা জানিয়েছেন, পাক হ্যান্ডলাররা মূলত মৌলবাদী ভাবধারায় মগজধোলাই করত। হামিম সেই মগজধোলাইয়ের শিকার। পরে সে পাক জঙ্গিগোষ্ঠী শেহজাদ ভাট্টি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হয়ে বাংলায় নানা অপারেশন শুরু করে। তাকে টাস্ক দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির খুঁটিনাটি নজর রাখার। কোথায় যাচ্ছেন, দিনভর কী করছেন, কোথায় তাঁর নিরাপত্তা খানিকটা ঢিলে - এসব তথ্য জানার কাজ করত হামিম। এসটিএফের কথায়, 'আনগার্ডেড লোকেশন' চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যাতে ষড়যন্ত্রের ব্লু প্রিন্ট ছকতে সুবিধা হয়। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বর্ধমানের রেনেসাঁ টাওয়ারের জিম থেকে এসটিএফ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে। তাকে জেরা করে বিস্ফোরক সমস্ত তথ্য হাতে পান এসটিএফের দুঁদে গোয়েন্দারা। শুক্রবার তা নিয়ে দিনভর খবরের শিরোনামে ছিল জইশ জঙ্গি হামিম। আর শনিবার ভবানীভবনে সাংবাদিকদের বৈঠক করে এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা জানান, হামিমেরও আগে বেশ কিছু হ্যান্ডলারদের সূত্র আসে হাতে। সেই সূত্র ধরে হামিম মণ্ডল জালে আসে। তাকে জেরা করেই পাক-যোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা।

বর্ধমানে জিম থেকে গ্রেপ্তার হয় জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডল, শুক্রবার

এদিন গৌরব শর্মা জানিয়েছেন, হামিমকে জেরা করে দেখা যায় যে কয়েকজন হ্যান্ডলার - রানা, উজায়ের-সহ কয়েকটি হ্যান্ডেলে ইনস্টাগ্রামে ফলো করত। নিজেদের মধ্যে এনক্রিপটেড কোডে চ্যাট করত। টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করত মাঝেমধ্যে। নিজেদের সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে গোপনে যাবতীয় অপারেশন চালাত। পাক হ্যান্ডলাররা মূলত মৌলবাদী ভাবধারায় মগজধোলাই করত। হামিম সেই মগজধোলাইয়ের শিকার। পরে সে পাক জঙ্গিগোষ্ঠী শেহজাদ ভাট্টি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হয়ে বাংলায় নানা অপারেশন শুরু করে। তাকে টাস্ক দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির খুঁটিনাটি নজর রাখার। কোথায় যাচ্ছেন, দিনভর কী করছেন, কোথায় তাঁর নিরাপত্তা খানিকটা ঢিলে - এসব তথ্য জানার কাজ করত হামিম। এসটিএফের কথায়, 'আনগার্ডেড লোকেশন' চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যাতে ষড়যন্ত্রের ব্লু প্রিন্ট ছকতে সুবিধা হয়। হামিম কি পাকিস্তান থেকে টাকাও পেত? এবিষয়ে এসটিএফ জানায়, পাকিস্তানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি জানতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এসটিএফের আরও তথ্য, শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, হামিমের টার্গেটে ছিলেন হাওড়ার  উত্তরের বিধায়ক তথা পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। তাঁর ছেলেকে 'হানিট্র্যাপে'র মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে, অপহরণ করে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা। এই সমস্ত তথ্যই হামিমকে জেরা করে পেয়েছেন বলে দাবি এসটিএফ আইজি গৌরব শর্মার। তবে এখনও আরও বহু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি। হামিমের বান্ধবী ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকারও গ্রেপ্তার হয়েছে। তার সঙ্গে পাক হ্যান্ডলারদের যোগ ছিল। কিন্তু বাংলাজুড়ে জঙ্গি নেটওয়ার্ক বিস্তারে হামিম-অর্পিতার সঙ্গে আরও কারা যুক্ত ছিল? ঠিক কোন কোন নাশকতার ছক ছিল? এদের আর্থিক উৎস কী? এসবের খোঁজে ম্যারাথন জেরা চলছে হামিম-অর্পিতাকে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement