দলের নিচুতলার কর্মীদের আর চটাতে চাইছে না বঙ্গ বিজেপি (Bengal BJP)। দলের একনিষ্ঠ পুরনোদের মনেও যাতে ক্ষোভ দানা না বাধে সেদিকেও নজর বিজেপি নেতৃত্বের। তাই ভোটের আগে কোনও জেলা থেকে অন্য কোনও দলের নেতারা যোগ দিতে চাইলে সেই জেলায় দলের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরাসরি রাজ্য নেতাদের ধরে অন্য দলের কেউ বিজেপির পতাকা ধরে প্রার্থী হয়ে যাবে সেটা আর এবার বিধানসভা ভোটে চাইছে না বঙ্গ বিজেপি। রাজ্যে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় গঙ্গোপাধ্যায় পর্যবেক্ষকরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলায় দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কেন্দ্রীয় নেতা জানালেন, এবারের ভোটটা বলিউডের সিনেমা হবে না। বাংলা সিনেমাই হবে। অন্য দলের নেতাদের শেষমুহূর্তে যোগদান করিয়ে হঠাৎ করে প্রার্থী করা নয়। একান্ত আলাপচারিতায় সেই কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, “এবার যোগদান মেলা করে ধুমধাম করে অন্য দলের কাউকে যোগদান নয়। কেউ যোগ দিতে চাইলে বাছবিচার করেই নেওয়া হবে।” ভোট বলেই ধুমধাম করে, ঢাকঢোল পিটিয়ে যোগদান করানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। অন্য দলের নেতাদের দলে নেওয়ার আগে শুদ্ধিকরণ চাইছে বিজেপি।
অন্যদিকে বাইরের কাউকে নিলে দলের পুরনোদের মধ্যে যাতে কোনও ক্ষোভ না হয় সেটাও খেয়াল রাখা হচ্ছে। যারা যোগদান করছেন, তাঁরা আদৌ বিজেপিতে যোগদান করার যোগ্য কি না, আদর্শগতভাবে তাঁরা বিজেপির সঙ্গে সহমত কি না, এসব খতিয়ে দেখা হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এবারে যোগদানে কোনওরকম আড়ম্বর করা হচ্ছে না। যদি ভোটের আগে কেউ যোগদান করতে চায় তাহলে যে মাপের নেতা, সেই আকারেই যোগদান অনুষ্ঠান করা হবে। সেটাও যতদূর সম্ভব অনাড়ম্বর হবে বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বঙ্গ বিজেপির (Bengal BJP) ভোট ম্যানেজাররা মনে করছেন, অনেক ক্ষেত্রেই দলবদলুদের বাড়বাড়ন্তের জন্য নিজেদের মূল আদর্শ থেকে সরে যাচ্ছে গেরুয়া শিবির। দলের অনেক নেতা গেরুয়া ভাবধারার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। ফলে দলের প্রচারে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বলা ভালো, অন্যদল থেকে 'বেনোজল' ঢোকা আটকাতে চায় পদ্ম শিবির। রাজ্য নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে, শুধু নামের পিছনে না ছুটে, যেসব নেতা সত্যি সত্যিই বিজেপির কাজে লাগবে সেসব নেতাকে দলে নিতে হবে।
