"I would not rape you, because you're not worthy of it." 'আমি তোমাকে ধর্ষণ করব না, কারণ তুমি তার যোগ্য নও।' বক্তা: ব্রাজিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেয়োর বলসোনারো'। উদ্দীষ্ট: পরিচিত ব্রাজিলীয় মহিলা আইনজীবী মারিয়া দো রোজারিও।
"I love the smell of deportations in the morning!" 'সক্কাল সক্কাল নির্বাসনের গন্ধটা আমার দারুণ লাগে!' বক্তা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রসঙ্গ: উদ্বাস্তু বিতাড়ন।
'বাইরে কর্মরত নারীরা বেশ্যা'। বক্তা: জামাত ইসলামির আমির তথা প্রধান শফিকুর রহমান। বিষয়: দলে এবং সমাজে নারীদের অবস্থান।
দেশ-কাল-পাত্রভেদে রাজনৈতিক বক্তাদের নামটুকু শুধু পালটে পালটে যায়, কিন্তু বিতর্কিত ও অবমাননাকর মন্তব্যের ফল্গুধারায় তারা সরগরম রাখে সংশ্লিষ্ট দেশ, রাজ্য বা প্রদেশের পরিবেশ। অশালীন মন্তব্যের তির কখনও মহিলা, কখনও দেশ খোয়ানো মানুষ, কখনও নারীসমাজ- কিন্তু বক্তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে, লক্ষ্যনীয়, সেই পুরুষই। তাদের লিঙ্গ-জাতি-ধর্মগত 'পুরুষকার'-এর আলজিভ সদা প্রস্তুত থাকে সামজিক উপক্ষয়ের ব্যাটনটি ধারণে।
অপভাষা, গোদা বাংলায় যা 'গালি', তা আমরা প্রত্যেকেই কম-বেশি ব্যবহার করে থাকি। কখনও বন্ধুমহলে হালকা চটুলতায়, কখনও রাস্তাঘাটে বা দৈনন্দিন যাপনে অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি-ঘটনা-মানুষের মুখোমুখি হয়ে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ভাষায় রাশ টানার প্রয়োগ ও সংযমের উপজ্ঞাটুকু, বলা বাহুল্য, নিজেদেরই ফলাতে হয়। সেইটুকু বোধই যদি না-থাকল, তবে আর 'মান' ও 'হুঁশ'-এর মিশেলে জীবজগতের 'সর্বশ্রেষ্ঠ' প্রাণীটি হওয়া কেন! আর প্রসঙ্গ যখন রাজনীতিক বা জনপ্রতিনিধিদের, তখন সতর্কতার পারদমিটার আরও উচ্চে থাকা কাম্য নয় কি?
অপভাষা, গোদা বাংলায় যা 'গালি', তা আমরা প্রত্যেকেই কম-বেশি ব্যবহার করে থাকি।
তাঁরা বোধহয় আকছার ভুলে যান যে তাঁরা আর পাঁচটা সাধারণের থেকে আলাদা-
তাঁদের কথা শোনা, মানা, অনুসরণ ও অনুকরণের প্রত্যাশায় বসে থাকে অগুনতি মানুষ। তাঁদের উচ্চারিত শব্দসমষ্টি এক বিপুল সংখ্যকের কাছে বেদবাক্য। তাঁদের বক্তব্য নিমেষে সমাজে মঙ্গল ডেকে আনতে পারে, আবার নিমেষে অশনিও।
সম্প্রতি নিজের হিন্দুবিরোধী মন্তব্যের জন্য করজোড়ে ক্ষমা চাইলেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড নেতা, ভরতপুরের বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
সম্প্রতি নিজের হিন্দুবিরোধী মন্তব্যের জন্য করজোড়ে ক্ষমা চাইলেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড নেতা, ভরতপুরের বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। ২০২৪-এ তৃণমূলে থাকাকালীন, মুর্শিদাবাদে রামনবমীর মিছিল প্রসঙ্গে হিন্দুদের উদ্দেশে ভাগীরথীর গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। সেই উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য সম্প্রতি 'হিন্দুভাই'দের কাছে ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু এই বলে ফেলা ও পরে দায় পড়ে ক্ষমা চাওয়ার পরম্পরা তো ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে নতুন নয়। তবু সাধারণ মানুষকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর 'খেলা'য় অংশ নিতেই হয়। ভোট দিয়ে যে-কাঙিক্ষত প্রার্থীকে তিনি আজ জেতালেন, তিনি কি অভয় দিতে পারেন যে কালের পাকেচক্রে তাঁরও ভগবান থেকে ভূতদশাপ্রাপ্তি ঘটবে না? দৃশ্য-শ্রাব্যের এই রাজনৈতিক ক্যাকোফোনির শেষ কোথায়? আর কীভাবেই বা?
