আগামী শনিবার ব্রিগেড ময়দানে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। তার আগেই শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুন। বুধবার রাতে চারচাকা গাড়িতে ফ্ল্যাটে ফেরার পথে দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ির সামনে একটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। তারপরই বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে পরপর গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন চন্দ্রনাথ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেড়াও। তাঁর বুকের বাঁদিকের পাঁজরে গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর মতোই চন্দ্রনাথ রথও পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। বাড়ি চণ্ডীপুর এলাকায়। পড়াশোনা রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে। এরপর যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনাতে। কিন্তু বেশিদিন সেই চাকরিতে থাকতে পারেননি। শোনা যায়, চন্দ্রনাথের নাকি ছোট থেকেই আধ্যাত্মিক পথে এগানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেই ইচ্ছা সফল হয়নি। বায়ুসেনার চাকরি থেকে স্বেচ্ছাঅবসর নিয়ে একটি কর্পোরেট সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের রাজনীতির যোগ রয়েছে। পরিবারের সবাই একটা সময় তৃণমূল করতেন। যদিও এখন চন্দ্রনাথের মা হাসি রথ বিজেপিতে রয়েছেন।
শুভেন্দুর অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করছিলেন চন্দ্রনাথ। জানা যায়, ২০১৯ সালে যখন তিনি জলসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী হন, সেই সময় চন্দ্রনাথ তাঁর আপ্তসহায়ক হয়েছিলেন। আর সেই সময় থেকে একেবারে ছায়াসঙ্গী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন বছর ৪০ এর ওই যুবক। বিরোধী দলনেতা হিসাবে যখন শুভেন্দু দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, সেই সময় তাঁর দপ্তরের সমস্ত কাজ চন্দ্রনাথ দায়িত্ব নিয়ে সামলেছিলেন। শোনা যাচ্ছিল, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হলে বড় দায়িত্ব পেতে পারেন চন্দ্রনাথ। কিন্তু তার আগেই সব শেষ। আর এই ঘটনায় রীতিমতো ফুঁসছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির তরফে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীকে ভয় দেখাতেই তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিশানা করা হয়েছে। বিজেপির আরও দাবি, এই ঘটনার পিছনে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব মদতে পেশাদার খুনি রয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তাদের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস খুনের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। গত তিন দিনে ভোট পরবর্তী হিংসায় আরও তিন তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছেন। আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকা সত্ত্বেও বিজেপি মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্ত হোক। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক হিংসা ও খুনের কোনও স্থান নেই।”
ঘটনার পর থেকেই মধ্যমগ্রাম এলাকায় ব্যাপক পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বারাসত জেলা পুলিশ সুপার পুষ্পা বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই আর কিছু বলতে চাইছি না। আমাদের কাজ করতে দিন। ট্রাফিক স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করুন।''
