সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা মুষলপর্বে তিন সাংসদ রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। রাজ্যসভার ওই তিনটি আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৪ জুলাই ওই ভোট হবে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৮টি আসনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছে ৮০টি আসনে। কিন্তু তারপরও এবারে রাজ্যসভার ভোটে তৃণমূলের হাতে থাকবে পেন্সিল! ৮০টি আসনে জিতেও এবার রাজ্যসভার ভোটে কোনও প্রার্থীই দিতে পারবে না বিরোধীরা! ভোটপরীক্ষায় শুরুর আগেই অঙ্কে 'ফেল' তৃণমূল! কিন্তু কোন অঙ্কে এই ঘটনা ঘটছে?
রাজ্যে বিজেপি জয়লাভের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন শুরু হয়। 'কালীঘাট শিবির' ও 'ঋতব্রত শিবির' দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়। সংসদেও তৃণমূলের সাংসদরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। দল ছাড়েন ২০ জন লোকসভার সাংসদ। এদিকে সেই আবহে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। তাঁরা দলও ছেড়েছেন। ওই তিন আসনেই এবার ভোটের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুলাই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। ১৫ জুলাই স্ক্রুটিনি এবং ১৭ জুলাই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। সাংসদ হিসেবে সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইকের ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ ছিল। সুস্মিতা দেবের মেয়াদকাল ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
এবার রাজ্যসভায় ভোট হলেও তৃণমূল প্রার্থী দিতে পারছে না। কারণ, বিধানসভার বর্তমান সংখ্যাতত্ত্ব অনুসারে রাজ্যসভার তিনটি আসনে ভোট হলে বিজেপির দু'টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস মোট ৮০টি আসন জিতেছে। একজোট থাকলে তৃণমূল একটি আসন পাওয়ার কথা ছিল।
এবার রাজ্যসভায় ভোট হলেও তৃণমূল প্রার্থী দিতে পারছে না। কারণ, বিধানসভার বর্তমান সংখ্যাতত্ত্ব অনুসারে রাজ্যসভার তিনটি আসনে ভোট হলে বিজেপির দু'টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস মোট ৮০টি আসন জিতেছে। একজোট থাকলে তৃণমূল একটি আসন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে তৃণমূলের বিধায়করা দুই শিবিরে রয়েছেন। ঋতব্রত শিবিরে রয়েছেন ৬৫ জন বিধায়ক। অন্যদিকে, কালীঘাট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে রয়েছেন ১৫ জন বিধায়ক। রাজনীতিতে 'কলহ', 'বিরোধিতা' এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে কোনওভাবেই এই ভোটে ঋতব্রত শিবিরকে সমর্থন দেবে না কালীঘাট শিবিরের বিধায়করা। ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নিজেদের ৬৫টি ভোট নিয়েই থামতে হবে।
অন্যদিকে, এই মুহূর্তে বিধানসভায় বিরোধীদের মোট আসন রয়েছে ৮৫টি। তৃণমূলের মোট ৮০টি আসন। কংগ্রেস ও হুমায়ুন কবীরের দল দুটি করে আসন জিতেছে। সিপিএম ও আইএসএফ একটি করে আসন পেয়েছে। হুমায়ুন কবীর দু'টি আসনেই নিজে লড়াই করে জিতেছিলেন। রেজিনগর আসনটি তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম আসন থেকে লড়ে দু'টিতেই জিতেছেন। নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। ফলে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম আসনে পুণর্নিবাচন হবে। দুটি আসন ফাঁকা থাকায় এই মুহূর্তে বিধানসভায় মোট বিধায়কের সংখ্যা ২৯২। তাঁরাই রাজ্যসভার ভোটে অংশ নেবেন।
এই মুহূর্তে বিধানসভায় বিরোধীদের মোট আসন রয়েছে ৮৫টি। তৃণমূলের মোট ৮০টি আসন। কংগ্রেস ও হুমায়ুন কবীরের দল দুটি করে আসন জিতেছে। সিপিএম ও আইএসএফ একটি করে আসন পেয়েছে।
রাজ্যসভার ভোটের হিসেব অনুসারে ২৯২টি আসনকে ৩ দিয়ে ভাগ করে ১ যোগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে ফলাফল হবে ৭৩+১ = ৭৪। কিন্তু জানা গিয়েছে, এবার তিনটি আসনেই আলাদা আলাদা করে ভোট হবে। প্রত্যেকটি আসনের জন্য পৃথক নোটিফিকেশন দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ‘সেপারেট ইলেকশন’ করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন, সেক্ষেত্রে ৩ জন প্রার্থীর প্রত্যেকের জন্য ২৯২টি ভোট ধরে ২৯২ ÷ ১ হয়। কিন্তু নির্বাচনী নিয়ম অনুসারে সঙ্গে আরও ১ যোগ করতে হবে। অর্থাৎ ২৯২ ভাগ ÷ ২। এর সঙ্গে আবারও সেই রাজ্যসভার নির্বাচনী নিয়ম অনুসারেই আরও ১ যোগ করতে হবে। তাতে দাঁড়াচ্ছে (২৯২ ÷ ২)+ ১ = ১৪৭। তৃণমূল কখনওই ওই অঙ্কে পৌঁছতে পারবে না। আরও জানা গিয়েছে, এবার তিনটি আসনের ভোটে পৃথক তিনটি ব্যালট বাক্স থাকবে। বিধানসভার আলাদা আলাদা ঘরে সেগুলি রাখা থাকবে। আলাদা হবে ব্যালট পেপারও। শুধু তাই নয়, নমিনেশন পেপারও আলাদা রংয়ের। বেগুনি কালির স্কেচ পেন এবার ব্যবহার হবে ভোটে। ১, ২, ৩ করে প্রেফারেন্সের ভোট দিতে হবে। টিক মার্ক বৈধ নয়।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিরোধীদের এবার কোনও সম্ভাবনাই নেই। তিনটি আসনেই বিজেপি জয়লাভ করবে। প্রসঙ্গত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন।
