শুধু তৃণমূল নয়, বিশ্বাস পরিবারেও 'গৃহদাহ'। আইনি বিচ্ছেদের পথে স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস। ২০১৯ সাল থেকেই পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা রয়েছেন দু'জনে। চলতি বছরের শুরু থেকেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেই জানান জুঁই। আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাসও। আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে হয়তো বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যেতে পারে বলেই মনে করছেন তিনি।
তৃণমূলের আত্মবিশ্লেষণ করে কাউন্সিলর জুঁইয়ের দাবি, "২০১১-২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় তৎকালীন শাসক শিবির ভালোই কাজ করেছে। তবে তারপর থেকে বদলে যায় সব কিছু। ভালোর পাশাপাশি খারাপ কাজ হতে থাকে। যা আমার মোটেও ভালো লাগত না। সে কারণেই আমি অড ম্যান আউট হয়ে যাই।"
জুঁই বিশ্বাস দক্ষিণ কলকাতার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। বিশ্বাস পরিবারের পুত্রবধূ। স্বরূপ ও জুঁইয়ের দুই কন্যাও রয়েছে। টলিপাড়ায় স্বরূপ বিশ্বাসের দাপট বৃদ্ধির পর থেকে নানা অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। জুঁই সাফ জানান, টলিউড সংক্রান্ত যা যা অভিযোগ সামনে এসেছে, তা তাঁর কানেও গিয়েছে। তবে তিনি এই বিষয়ে আর পাঁচজনের থেকে বেশি কিছু জানেন না। কারণ, স্বরূপের সঙ্গে টলিপাড়ার যতটা গভীর সম্পর্ক, ততটাই দূরত্বে থাকতেন জুঁই। কখনও কোনও পার্টিতে যেতেন না। প্রিমিয়ারেও দেখা যেত না তাঁকে।
জুঁই আরও জানান, গত ২০১৯ সাল থেকে পারস্পরিক সমঝোতায় তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। তবে কোভিডকাল হওয়ায় ২০২০ সালে আর ঠিকানা বদল করেননি। তবে ২০২৫ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে আলাদা ঠিকানায় চলে যান। তবে এতদিন কেন প্রকাশ্যে বিবাহবিচ্ছেদের কথা বলেননি জুঁই? তিনি জানান, তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। সে কারণে ব্যক্তিগত জীবনের কথা প্রকাশ্যে আনেননি। যত দ্রুত সম্ভব আইনি পথে বিচ্ছেদ হয়ে যাক, তা-ই এখন চান জুঁই।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়েও এদিন মুখ খোলেন জুঁই। তৃণমূলের আত্মবিশ্লেষণ করে কাউন্সিলরের দাবি, "২০১১-২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় তৎকালীন শাসক শিবির ভালোই কাজ করেছে। তবে তারপর থেকে বদলে যায় সব কিছু। ভালোর পাশাপাশি খারাপ কাজ হতে থাকে। যা আমার মোটেও ভালো লাগত না। সে কারণেই আমি অড ম্যান আউট হয়ে যাই।" আর পাঁচজনের মতো কি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই নিশানা করেছেন জুঁই, স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
