shono
Advertisement

‘ভাবমূর্তি তৈরির লক্ষ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো এইমস খুলছে’, কেন্দ্রকে তোপ বিরোধীদের

পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে ধুঁকছে দেশের নানা প্রান্তের এইমসগুলি।
Posted: 02:53 PM Aug 31, 2023Updated: 07:52 AM Sep 01, 2023

সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: ডাক্তারি সংখ্যাল্পতায় ভুগছে দেশের প্রায় প্রতিটি এইমস (অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক‌্যাল সায়েন্সেস)। দিল্লি, কল্যাণী-সহ দেশের মোট ২০টি প্রান্তে চালু রয়েছে এইমস। কাশ্মীরের অবন্তিপোরা, হরিয়ানার রেওয়ারি এবং বিহারের দ্বারভাঙ্গায় চলছে এইমসের বিভিন্ন ভবন নির্মাণের কাজ। বেঙ্গালুরু এবং মণিপুরেও এইমস (AIIMS) তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশবাসীকে সুলভে উন্নতমানের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে একের পর এক এইমস গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, বাস্তব যা পরিস্থিতি, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি এইমসেই রয়েছে ডাক্তার ও অধ্যাপকের অভাব।

Advertisement

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের একটি সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ২০টি এইমসে মোট ডাক্তারের পদ রয়েছে ৪৫,৭৭৪। যার মধ্যে খালি রয়েছে ১৪,১৩০টি পদ। মোট ডাক্তারের সংখ্যাকে আবার ভাগ করা যেতে পারে দু’টি ভাগে। অধ্যাপক ও ডাক্তার। ভবিষ্যতের ডাক্তার তৈরি করার জন্য ২০টি এইমসে রয়েছে পাঁচ হাজার ৫২৭ জন অধ্যাপকের পদ। অথচ সেখানে কর্মরতের সংখ্যা ৩,৩৬৬। অর্থাৎ ২,১৬১ জন অধ্যাপকের পদ খালি। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ। আবার ২০টি এইমসে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া ডাক্তারের মোট সংখ্যা ৪০,২৪৭। যার মধ্যে ২৮,২৭৮ জন নিয়মিত কাজ করলেও ফাঁকা আছে ১১ হাজার ৯৬৯ ডাক্তারের জায়গা। যা ৩০ শতাংশের সামান্য কম। 

[আরও পড়ুন: বাইডেনের নিরাপত্তায় বাড়তি নজর, দিল্লির হোটেলে তৈরি হচ্ছে বিশেষ লিফট!]

প্রাচীনতম ও বৃহত্তম দিল্লি এইমস-এও রয়েছে বেশ কিছু খালি পদ। এখানে অধ্যাপকের জন্য বরাদ্দ সংখ্যা ১২০৭। যার মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ অর্থাৎ ৩৪৭টি পদ খালি। কর্মরত ডাক্তারের ক্ষেত্রে ফাঁকা পদ অবশ্য এত বেশি নয়। ১২,৮৭৮ বরাদ্দ ডাক্তারের মধ্যে পরিষেবা দিচ্ছেন ১০,৪৪৭ জন। কল্যাণীতে অধ্যাপক ও কর্মরত ডাক্তারের সংখ্যা যথাক্রমে ২৫৯ ও ১৫২০। যার মধ্যে খালি রয়েছে ১৫১ ও ৮৩৪টি করে পদ। শতাংশের বিচারে যা যথাক্রমে ৫৮ ও ৫৫। ডবল ইঞ্জিন সরকারের উত্তরপ্রদেশ (গোরক্ষপুর ও রায়বরেলি), অসম (গুয়াহাটি), গুজরাত (রাজকোট)-এ বরাদ্দ সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি পদ খালি।

কেন দেশের অন্যতম সেরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তারি সংখ্যার এই বেহাল অবস্থা? উঠছে প্রশ্ন। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ ডা. শান্তনু সেন এই প্রসঙ্গে বলেন, “স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসাবে দেশের বিভিন্ন এইমস ঘুরে দেখেছি। পোস্টমর্টেম করার জায়গা নেই অথচ ফরেন্সিক পড়ানো হচ্ছে, এমন এইমস-ও আছে। ন্যূনতম পরিকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভাবমূর্তি তৈরির লক্ষ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো এইমস খুলেছে এই সরকার। সংসদে বারবার এই নিয়ে বলেও লাভ হয়নি।” সিপিএম নেতা তথা ডাক্তার ফুয়াদ হালিমের প্রশ্ন, “যে এইমসগুলিতে অধ্যাপকদের সংখ্যা এত কম, ডাক্তারি পড়ুয়ারা কী শিক্ষা পাচ্ছে সেটা ভেবেই আঁতকে উঠছি। সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে যেভাবে তাড়াহুড়ো করে এইমস খোলা হচ্ছে, তার বদলে পরিকল্পনা করে একটি একটি এইমস তৈরি করা হলে সাধারণ মানুষের উপকার হত। এইমস সম্পর্কে মানুষের মনে যে বিশ্বাস রয়েছে, তা আরও দৃঢ় হত।

[আরও পড়ুন: হিন্দু যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব কীসের? আহমেদাবাদে মুসলিম তরুণীকে হেনস্তা, মারধর পুরুষ সঙ্গীকে]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement