একটা সময় সকাল মানেই ছিল শান্ত, ধীর আর নিজের মতো করে শুরু করা সময়। কিন্তু এখন অনেকের দিন শুরু হয় চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল হাতে তুলে নেওয়ার মধ্যে দিয়ে। নোটিফিকেশন, মেসেজ, খবর- সবকিছু মিলিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মন ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
এই অভ্যাসটিকেই এখন অনেকে 'সিক্স এ.এম ফোন রুল' বলছেন। বাইরে থেকে এটি তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি আমাদের মস্তিষ্কের কাজ করার ধরণকে ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
কেন এই অভ্যাস এতটা ক্ষতিকর?
সকালে ফোন দেখা অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এর উলটোটা ঘটে। ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে শান্ত ও নিরপেক্ষ অবস্থায় থাকে। এই সময়টা যদি স্ক্রিন দিয়ে ভরে দেওয়া হয়, তাহলে মস্তিষ্ক হঠাৎ করেই অতিরিক্ত তথ্যের চাপে প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে।
ফলাফল?
আপনার নিজের চিন্তা দিয়ে দিন শুরু না হয়ে, বাইরের তথ্যই আপনার মুড ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।
ধীরে ধীরে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়
এই প্রভাব একদিনে বোঝা যায় না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে জমতে থাকে। অনেকেই অনুভব করেন-
- ঘুম থেকে উঠেই অকারণ চাপ
- সারাদিন মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
- দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাওয়া
- অস্থিরতা ও উদ্বেগ
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, এই অবস্থায় আমরা শরীরের স্বাভাবিক প্রয়োজন, যেমন স্ট্রেচ করা, জলপান বা শান্তভাবে দিন শুরু করা, এসবই উপেক্ষা করি।
ছবি: সংগৃহীত
ফোন নয়, সমস্যাটা সময়
ফোন ব্যবহার সমস্যা নয়। সমস্যা হল কখন আপনি এটি ব্যবহার করছেন। সকালে মস্তিষ্ক সবচেয়ে সংবেদনশীল থাকে। এই সময় অতিরিক্ত তথ্য ঢুকলে সেটি পুরো দিনের মানসিক ছন্দ নষ্ট করে দিতে পারে।
তাহলে কী করা উচিত?
ডিজিটাল ওয়েলনেস বিশেষজ্ঞরা খুব কঠিন কিছু বলছেন না। শুধু ছোট একটা পরিবর্তন-
ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ফোন এড়িয়ে চলুন। এই সময়টা ব্যবহার করুন-
- শরীরচর্চা বা স্ট্রেচিং
- জলপান
- চুপচাপ বসে থাকা বা ধ্যান
- নিজের মতো করে দিনের পরিকল্পনা করা
সকালটা শুধু দিনের শুরু নয়, এটি আপনার মনের 'স্টার্টিং পয়েন্ট'। আপনি যদি দিনটা শুরু করেন নোটিফিকেশন দিয়ে, তাহলে পুরো দিনটাই অন্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। তাই প্রশ্নটা খুব সহজ- আপনার দিন কি আপনার নিজের নিয়ন্ত্রণে শুরু হবে, নাকি ফোনের স্ক্রিন ঠিক করে দেবে আপনার মন কেমন থাকবে?
