দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: ডায়মন্ড হারবারে সভা করতে যাওয়ার পথে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এর জেরে ফের রাজ্যে ৩৫৬ ধারা অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি করেছেন বঙ্গ বিজেপির নেতা-কর্মীরা। রবিবার হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে একটি আলোচনা সভায় অংশ নিতে এসে এই দাবি না করার পরামর্শ দিলেন বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।
বিজেপি (BJP)’র শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার বুদ্ধিজীবী সেলের ওই সেমিনারে রবিবার ৩৫৬ ধারার প্রসঙ্গ ওঠে। আর এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) বলেন, ‘কোনও অবস্থাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক শহিদ হতে দেবেন না। যাতে উনি না বলতে পারেন ৩৫৬ ধারা করে ওনাকে হঠিয়ে দেওয়া হল।’
[আরও পড়ুন: বাড়ল সুস্থতার হার, কমল দৈনিক সংক্রমণ, রাজ্যের করোনা গ্রাফে খানিক স্বস্তি]
আসলে বিজেপি নেতৃত্বের কেউ কেউ পশ্চিমবঙ্গে ৩৫৬ ধারা জারি করার কথা বললেও স্বপনবাবু তাতে বিশ্বাসী নন। কারণ তিনি মনে করেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই চাইছেন মানুষ যাতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে আসার কথা বলেন। কিন্তু, দল হিসেবে বিজেপি ৩৫৬ ধারা চায় না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে ভয়ের পরিবেশ দূর করতে হবে।
জেপি নাড্ডার কনভয়ের উপর হামলার ঘটনায় রোহিঙ্গাদের একটা অংশের জড়িত থাকার সম্ভাবনাকে অবশ্য উড়িয়ে দেননি স্বপনবাবু। তবে সরাসরি এই ঘটনায় রোহিঙ্গারা ছিল বলেও দাবি করেননি। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর এসেছিল যেখানে নাড্ডার কনভয়ের উপর হামলা হয়েছিল সেই জায়গার কাছেই একটা বড় রোহিঙ্গা বসতি রয়েছে। ওখান থেকে তারা তৃণমূলের আক্রমণে সামিল হয়েছিল।’
পাশাপাশি সেদিনের ঘটনায় যে তিন জন পুলিশ অফিসারের নাম উঠে এসেছে তাঁদের উদ্দেশ্যে বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘ওই অফিসারদের উদাসীনতার কারণে জেপি নাড্ডার কনভয়ের উপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার আগের দিন আমরা জানতে পারি স্থানীয় বিধায়ক সওকত মোল্লা লোকজন জড়ো করেছেন। এই খবর যদি আমরা জানতে পারি তবে পুলিশ জানতে পারল না এটা কখনই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে সবাইকে বলব, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে অনেক আগেই বিজেপির সাফল্য এসেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সাফল্য আসতে অনেক সময় লেগেছে। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আপনারা এমন একটা পরিবেশ তৈরি করুন যাতে মানুষ মুখ খুলে কথা বলতে পারে।’