shono
Advertisement
Rudranil Ghosh

'তৃণমূলই ব্যান, সেখানে ব্যান কালচার চলবে কী করে?', টলিউডে 'ঘুঘুর বাসা' ভাঙার চ্যালেঞ্জ রুদ্রনীলের

সাম্প্রতিক অতীতে টলিউডের 'নিষিদ্ধ ফাঁড়া'র গেরোয় পড়তে হয়েছে অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেন-সহ একাধিক শিল্পীকে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশনের বৈঠকেও সেপ্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন দেব। এবার ভোটের ময়দানে জিতেই টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ার 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'কে নিয়ে বিস্ফোরক রুদ্রনীল।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 12:30 PM May 06, 2026Updated: 03:02 PM May 06, 2026

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাস্ত হওয়ার পর মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন! সেসময়ে বামে রাজনীতিতে হাতেখড়ি করা অভিনেতার ভায়া তৃণমূল হয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে কম কটাক্ষ, সমালোচনা হয়নি। তবে ছাব্বিশের বিধানসভায় স্বভূম শিবপুরের ঘাসফুলের বাগানে পদ্ম ফুটিয়ে ভোটের ময়দানে প্রথমবার 'খাতা খুলেতে' পেরেছেন রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। জিতেই এবার টলিউডে 'ঘুঘুর বাসা' ভাঙার চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন নেতা-অভিনেতা।

Advertisement

"ভগবান রামচন্দ্রের আশীর্বাদে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায়ে, বিজেপির লড়াকু কর্মীদের প্রাণপাত করা পরিশ্রমে তৃণমূলের লুঠের প্রাসাদ শেষ। সাম্রাজ্য খতম। তৃণমূলকেই যখন মানুষ ব্যান করে দিয়েছে, তার আর ব্যান কালচার চলবে কী করে?"

শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর হাওড়াবাসীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি টলিউডের 'ব্যান সংস্কৃতি' প্রসঙ্গেও সরব হন অভিনেতা। টলিউডের লাগামহীন দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হওয়া রুদ্রনীলের মন্তব্য, "ভগবান রামচন্দ্রের আশীর্বাদে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায়ে, বিজেপির লড়াকু কর্মীদের প্রাণপাত করা পরিশ্রমে তৃণমূলের লুঠের প্রাসাদ শেষ। সাম্রাজ্য খতম। তৃণমূলকেই যখন মানুষ ব্যান করে দিয়েছে, তার আর ব্যান কালচার চলবে কী করে?" সাম্প্রতিক অতীতে টলিউডের 'নিষিদ্ধ ফাঁড়া'র গেরোয় পড়তে হয়েছে অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেন-সহ একাধিক শিল্পীদের। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশনের বৈঠকেও সেপ্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন দেব। এবার ভোটের ময়দানে জিতেই টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ার 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'কে নিয়ে বিস্ফোরক রুদ্রনীল (Rudranil Ghosh)। অনির্বাণ ভট্টাচার্যের উপর অলিখিত ব্যানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নেতা-অভিনেতার সংযোজন, "যোগ্যরা কাজ করবে। অনির্বাণ একা নয়। অনির্বাণ সনাতনের বিরোধিতা করেছিল। তা বলে কি অনির্বাণ যোগ্য নয়? অবশ্যই যোগ্য। রুদ্রনীল ঘোষকে যখন আটকে দেওয়া হয়েছিল অনির্বাণ থেকে শুরু করে বহু মানুষ চুপ করেছিলেন।" এখানেই শেষ নয়!

রুদ্রনীল ঘোষ।

"প্রতিবাদ করেছিলাম বলে টেকনিশিয়ান ভাইদের কালো ব্যাজ পরিয়ে দিয়ে ব্যান কালচারের মিছিল করিয়েছিল- 'বয়কট রুদ্রনীল'। সেসময়ে যাঁরা চুপ ছিলেন, তাঁদের ঘরে পরে আগুন লেগেছিল। তাঁরা যদি তখন যোগ্যতা নিয়ে কথা বলতেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেন, তাহলে...।"

শিবপুরের হবু বিধায়কের সংযোজন, "তখন ২০২১ সাল। তৃণমূলের আইন না মানা, তারা যা বলবে সেটাই আইন, যা না মানলে কাউকে একঘরে করে দেওয়া হবে- এই বিষয়টা নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম বলে টেকনিশিয়ান ভাইদের কালো ব্যাজ পরিয়ে দিয়ে ব্যান কালচারের মিছিল করিয়েছিল- 'বয়কট রুদ্রনীল'। সেসময়ে যাঁরা চুপ ছিলেন, তাঁদের ঘরে পরে আগুন লেগেছিল। তাঁরা যদি তখন যোগ্যতা নিয়ে কথা বলতেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেন, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ওই বিশ্বাস ভাইয়েরা এই শোষণ চালাতে পারতেন না। রুদ্র, অনির্বাণ, ঋদ্ধি বা প্রচুর টেকনিশিয়ান, প্রযোজক, পরিচালকদেরও বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূলের সিলেবাস হচ্ছে যারা যোগ্য নয়, তারা চাকরি পাবে। যারা যোগ্য কাজ পাবে না, কারণ তাদের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা নেই। এই সিলেবাস ফলো করে তৃণমূলের নেতারা টলিউডের অন্যায় দেখে চুপ করে থাকতেন বা তাঁদের পক্ষ নিয়ে প্রচার করতেন, তাঁদের যোগ্য মনে করে কাজ দেওয়া হত। আর বাকিদের বসিয়ে দেওয়া হত। ব্যান কালচার বলে কিছু হয় না। যোগ্যতার নিরিখে টলিউডে শিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক, কলাকুশলী সকলে কাজ করবে। শুধু টলিউডে নয়, থিয়েটার, যাত্রা বা যে কোনও শিল্পে। আর দেশকে ভালোবাসতে হবে।" রুদ্রনীল বলছেন, "ধন্যবাদ সারা পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে। যাঁরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইটা হৃদয়ের গোপনে রেখে লড়ছিলেন।" তাঁর কথাতেই স্পষ্ট যে অনেকদিন ক্ষোভ জমিয়ে রেখেছিলেন অভিনেতা তথা শিবপুরের হবু বিধায়ক।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement