বঙ্গ রাজনীতিতে পালাবদলের আবহে নতুন সমীকরণ! চর্চায় তৃণমূলের সুপারস্টার সাংসদের ফেসবুক পোস্ট। বঙ্গে বিজেপিকে স্বাগত জানিয়ে ফের সিনেইন্ডাস্ট্রির নিষিদ্ধ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব দেব (Dev)। রাজ্যে পালাবদলের আবহে নতুন সরকারের কাছে নেতা-অভিনেতার আর্জি- এক হোক টলিউড। মুছে যাক সব বিভাজন নীতি।
"বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির অন্দরে 'নিষেধাজ্ঞা' এবং 'বিভাজনের' যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা যেন চিরতরে অতীত হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সিনেশিল্প বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ।..."
গত একবছরে বাংলা সিনেপাড়ার 'ব্যান কালচার' নিয়েও কম হইচই হয়নি। সিনেইন্ডাস্ট্রির একাধিক ব্যক্তিত্ব এযাবৎকাল অভিযোগ তুলেছেন যে, টলিউডে একচ্ছত্র প্রতিপত্তি বহাল রেখেছিল 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'। তবে দীর্ঘ দু' দশক বাদে এবার টালিগঞ্জের সবুজ দূর্গেও ধস নেমেছে! কিন্তু পালাবদলের পরও কি সেই রাজত্ব বজায় থাকবে? রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের আবহে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। এবার বঙ্গে ফুলবদলে টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবী সরকারের উদ্দেশে তৃণমূল সাংসদ দেবের আর্জি, "একজন সাধারণ মানুষ এবং সিনেদুনিয়ার ব্যক্তিত্ব হিসেবে নতুন সরকারের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, তারা যেন ঐক্য এবং শৈল্পিক স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখেন। বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির অন্দরে 'নিষেধাজ্ঞা' এবং 'বিভাজনের' যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা যেন চিরতরে অতীত হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সিনেশিল্প বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। বাংলা সিনেমার উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন সকলে মিলে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মান বজায় রেখে কাজ করতে পারবে। এখানে কোনও পক্ষপাত বা বাধা নয়, প্রয়োজন সহাবস্থানের।"
ভোটপ্রচারে দেব। ছবি: ফেসবুক
"রাজনীতি ছাড়তে চাই কিনা সেটা সময় সাপেক্ষ। কোনওদিন রাজনীতির মিসইউজ করিনি, সে কোভিডের সেময় হোক বা ব্যান শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা হোক, আমি পাওয়ার পলিটিক্সে বিশ্বাস করি না।"
দেবের মন্তব্য, "জনাদেশে বাংলায় নতুন সরকার গঠনের জন্য বিজেপিকে আন্তরিক অভিনন্দন। আশা করছি, এই সরকার আমাদের রাজ্যের অগ্রগতি, শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে এবং আমজনতার কণ্ঠস্বর যেন যথাযথভাবে শোনা হয়, সেটাও সুনিশ্চিত করবে।" তবে বিজেপি সরকারকে স্বাগত জানালেও পোস্টের একেবারে অন্তিমভাগে তিনি ফিরে গিয়েছেন সাংসদের দায়িত্বে। যেখানে দেব উল্লেখ করেছেন, "আমি 'ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান' বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতার অপেক্ষায় রইলাম- যা ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবং এক অপরিহার্য প্রয়োজনও বটে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বলতে পারি, এই প্রকল্প মূলত মানুষের জীবন ও জীবিকা সুনিশ্চিত করার জন্যই এবং ঘাটালবাসীকে তাদের প্রাপ্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ারই নামান্তর মাত্র।" তাহলে কি রাজনীতি থেকে বাণপ্রস্থ নেবেন দেব? বিজেপিকে স্বাগত জানানোর পরই প্রশ্ন উঠেছে।
এপ্রসঙ্গে সংবাদ প্রতিদিনকে দেব বলেন, "অ্যাকসেপ্ট করতে হবে যে বিজেপি জিতেছে। দুটি বিষয় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একটা হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি, অন্যটা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান। দুটো বিষয় নিয়েই পরিষ্কার লিখেছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, “আমি রাজনীতি করতে চাই না, বাংলার মানুষ সবচেয়ে বেশি জানে। আগেই আমি রাজনীতি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। ফিরেইছিলাম ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য। এখন রাজ্য সরকারে তৃণমূল কংগ্রেস নেই, নতুন করে যে রাজ্য সরকার হবে তা ডাবল ইঞ্জিন হবে। তারা যেন ব্যান কালচার তোলে এবং আমি যে কথা দিয়েছি সেই কথাগুলো তারা যেন পূরণ করে। রাজনীতি ছাড়তে চাই কিনা সেটা সময় সাপেক্ষ। কোনওদিন রাজনীতির মিসইউজ করিনি, সে কোভিডের সেময় হোক বা ব্যান শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা হোক, আমি পাওয়ার পলিটিক্সে বিশ্বাস করি না।"
এগারো সালে বামদূর্গ ধসে যাওয়ার পর তৎকালীন ‘পরিবর্তনের ট্রেন্ডে’ ২০১৪ সালে তৃণমূলের হাত ধরে রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করেন টলিউড সুপারস্টার দেব। সময় যত গড়িয়েছে রাজনীতির পিচে ‘পরিণত দেব’কে দেখে ততোধিক বিস্মিত হয়েছে বঙ্গবাসী। একযুগের রাজনৈতিক কেরিয়ারে সাংসদ হিসেবে পরপর তিনবার হ্যাটট্রিক করেছেন একেবারে নিজস্ব ক্যারিশমাতেই। এবার বিজেপিকে স্বাগত জানিয়ে কি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন দেব?
