ভোট মিটতেই উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলে বেনজির সংঘাত! হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংসদ-কাউন্সিলরদের কথা কাটাকাটি এবং তার ভাষা একেবারে মাত্রা ছাড়িয়ে গেল। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কাউন্সিলরদের একাধিক অভিযোগের জবাবে তাঁর কটূ মন্তব্য নিয়ে চূড়ান্ত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রবিবার সকালে। ভোটের ফলপ্রকাশের পর দলের অনেক কর্মী ঘরছাড়া। তাঁদের ঘরে ফেরাতে নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগের আঙুল তোলা হয় কলকাতা উত্তরের সাংসদ তথা জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে। তার জবাবে তৃণমূল কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘুরিয়ে 'কুত্তা' বলে অপমান করেছেন সুদীপ, এমনই অভিযোগ ওঠে। হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথন ভাইরাল হওয়ায় তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব একেবারে প্রকাশ্যে চলে এল।
ঠিক কী ঘটেছে? জানা যাচ্ছে, শনিবার রাতে উত্তর কলকাতা জেলার তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়তে সম্বোধন করে লেখেন, 'সুদীপদা, আপনি উত্তর কলকাতার অঘোষিত সম্রাট। আপনার তো উচিত ছিল ঘরছাড়াদের ঘরে ঢোকানো। অথচ আপনি নিজেই ঘরে ঢুকে বসে আছেন। অনেক হয়েছে এবার ছাড়ুন। সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।' এতে সুদীপ ঘনিষ্ঠ সুনন্দা সরকার তাঁকে পালটা প্রশ্ন করেন, 'তোমার এমএলএ কী করছে? যার এত পাওয়ার, নিজের দলের কর্মীদের কেস দিয়ে থানায় বসিয়ে রাখত, সে এখন কোথায়?' এর জবাবে সুব্রত লেখেন, 'শশী পাঁজা আর এমএলএ নেই। কিন্তু সুদীপদা এখনও এমপি এবং উত্তর কলকাতার প্রেসিডেন্ট।'
উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কাউন্সিলরের অভিযোগ
এই কথোপকথনের পর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটিতে সক্রিয় হন খোদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সুনন্দা সরকারকে জবাব দিয়ে লেখেন, 'সুনন্দা, এদেরকে একটাই উত্তর, হাতি চলে বাজার/কুত্তে ভোকে হাজার। জবাব দিও না, আমি দিয়ে দেব।' সুনন্দা ফের লেখেন, 'সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।' সুদীপের মন্তব্যের সূত্র ধরে আবার সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আবার গ্রুপে লেখেন, 'দলের কাউন্সিলরকে যে কুত্তা বলে, সে ভুলে যাচ্ছে সে কুত্তার চেয়ারম্যান।' হোয়াটসঅ্যাপে সকলের কথোপকথনের ভাষা এমন, যা দেখে স্তম্ভিত সকলে। দলের মধ্যে এতটা কোন্দল আর তা এভাবে প্রকাশ্যে চলে এল! এনিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিকর ভাষায় উত্তর
শুধু হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেই নয়, ভোটের পর থেকে উত্তর কলকাতার অধিকাংশ কাউন্সিলর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবনির্বাচিত বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। প্রত্যেকের অভিযোগ, ''আমাদের দলের কর্মীরা যখন ঘরছাড়া, বিজেপির কাছে মার খাচ্ছে, আমরা সুদীপদা-সহ দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু হয় ফোন বন্ধ অথবা ফোন ধরছেন না তাঁরা।''
আরও অভিযোগ, যেখানে ঘরছাড়া দলের কর্মীদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করা উচিত সেখানে সুদীপদা নিজেরাই ঘরে ঢুকে বসে আছেন! উলটে বিজেপির চেনাজানা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হিংসার পরিবেশ থামানোর চেষ্টা হচ্ছে, পুলিশেরঅভিযোগ ব্যবস্থা করে ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করা চলছে। এহেন পরিস্থিতি কাম্য নয় বলে দাবি তৃণমূলের আক্রান্ত নেতা-কর্মীদের। এর মধ্যে আগুনে ঘি পড়েছে আরও একটি খবরে। তা হল, সুদীপ নাকি স্ত্রীকে নিয়ে দিল্লি গিয়েছেন, বিজেপিতে যোগদানের তদ্বির করতে। এর সত্যতা যাচাই করা না হলেও এনিয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ নিচুতলার কর্মীরা।
