বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোট করতে নজিরবিহীন যতরকম পদক্ষেপ করা যায়, তার সবটাই করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট মিটেছে নির্বিঘ্নে। দ্বিতীয় দফায় (WB 2nd Phase Election 2026) কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হচ্ছে। তবে এসব ছাপিয়ে ভোট দ্বিতীয়ার সবচেয়ে বড় খবর হয়ে দাঁড়াল সাতসকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বুথ পরিদর্শন। চেতলা, চক্রবেরিয়ার বুথগুলি থেকে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর 'অতিসক্রিয়তা' নিয়ে বারবার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো পুলিশ পর্যবেক্ষকদের ভূমিকায় বিরক্তি প্রকাশ করে বিবৃতিও দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে এঁদের আনা হয়েছে। কোনও কাজ করছে না শুধুমাত্র ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে, সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। বিজেপির তালে নাচছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। তাঁর এই বিবৃতিতে অনেকেরই অনুমান, টার্গেটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক উত্তরপ্রদেশের 'সিংঘম' অজয় পাল শর্মা।
দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে নজিরবিহীনভাবে উত্তরপ্রদেশের 'এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট' অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে আসা হয়েছে বাংলার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে। তাঁকে সংঘর্ষপ্রবণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর দায়িত্ব নিয়ে 'সিংঘম' আইপিএস সরাসরি তৃণমূল প্রার্থীর নাম তুলেই হুমকি দিয়েছেন বলে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভোটের দিনও তিনি গাড়ি নিয়ে টহল দিয়েছেন ফলতা, মগরাহাট পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবারের একাধিক জায়গায়। কোথাও কোনও গন্ডগোল চোখে পড়লেই কড়া দাওয়াই তৈরি তাঁর।
উত্তরপ্রদেশের 'এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট' অজয় পাল শর্মার হুমকি-ভিডিও ভাইরাল।
ভোটের গতিবিধি যেমন নখদর্পণে রাখতে চাইছেন তিনি, তেমনই তাঁর কাজকর্মের দিকেও নজর রয়েছে প্রশাসনের। অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে একের পর এক তোপ দেগেছেন তৃণমূল নেতারা। এক আইনজীবী 'সিংঘম' অফিসারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন হাই কোর্টে, তবে তা খারিজ হয়ে গিয়েছে। এবার দলের সুপ্রিমোর নিশানাতেও কি তাই?
বিবৃতিতে মমতার বক্তব্য, ‘‘নির্বাচন কমিশন খোলামেলাভাবে আমাদের উপর অত্যাচার করছে। বাইরে থেকে এতজন পুলিশকে নিয়ে এসেছে আর তাঁরা সবাই বিজেপির সুরে নাচছে। কিছু করছে না, শুধু মানুষকে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে, ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে। চক্রবেড়িয়ায় গিয়ে দেখলাম, আমাদের দলের পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। এভাবে কি ভোট হয়? পুলিশ, বাহিনী নয়, ভোটটা তো দিচ্ছে মানুষ। মানুষের রায়েই তাঁদের খুব দ্রুত বাংলা ছাড়তে হবে।''
