শেষ দফা বঙ্গভোটে (West Bengal Election 2026 2nd Phase) সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পর্ব চললেও ভাঙড় রয়েছে সেই ভাঙড়েই, তা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে গেল। দুপুর গড়াতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড়ের প্রাণগঞ্জ অঞ্চলের রঘুনাথপুর এলাকা। এখানকার আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিক্কি প্রাণগঞ্জ পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল কর্মীরা। পালটা নওশাদ তাঁদের দিকে তেড়ে যান। পিছু হটেননি ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরাও। কিন্তু এনিয়ে কিছুক্ষণ পর হাতাহাতিতে জড়ান আইএসএফ ও তৃণমূল কর্মীরা। শেষমেশ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সেখানে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি শান্ত করে। নওশাদকে 'বদ্ধ পাগল' বললেন ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা।
বুধবার সকালে ভাঙড়বাসীর দিনটা শুরু হয়েছিল একটু অন্যভাবে। নির্বাচনের দিন (West Bengal Election 2026 2nd Phase) এমন শান্ত সকাল বোধহয় অনেকদিন দেখেননি তাঁরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় সকলে নির্ভয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। ইভিএম বিভ্রাট হওয়ায় কোথাও কোথাও ভোট শুরু হয়েছে। এছাড়া আর তেমন কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু রোদ চড়তেই রাজনীতির উত্তাপও বাড়ল ভাঙড়ের। তৃণমূল প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি সকাল থেকে বুথে বুথে ঘুরছেন। প্রাণগঞ্জে ঢুকতেই তাঁকে দেখে তৃণমূল কর্মী, সমর্থকরা 'জয় বাংলা' স্লোগান দেন। তা শুনে নওশাদ রীতিমতো তেড়ে যান তাঁদের দিকে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ''কী হয়েছে? এত তাড়া কীসের?'' বোঝাই যায়, আইএসএফ প্রার্থী মেজাজ হারিয়েছেন।
নওশাদকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ, সামলাতে ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ছবি: বিশ্বজিৎ নস্কর
এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু প্রাণগঞ্জে আইএসএফ ও তৃণমূল কর্মী, সমর্থকরা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সেখানেও নিজের দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পৌঁছে যান নওশাদ। তাঁকে দেখে ফের স্লোগান ওঠে। ঘটনাস্থলে ভাঙড় থানার বিশাল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এনিয়ে ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা বলেন, ''ওঁর (নওশাদ) আচার, ব্যবহার কিছুই সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের মতো নয়। এসব দেখে বোঝা যায়, বদ্ধ উন্মাদ। ওঁর অভিযোগ, কথাবার্তাকে আমরা গুরুত্ব দিই না।''
