আমরা ভাবি, এক প্যাকেট চিপস, বিস্কুট বা কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু রেডি-টু-ইট স্ন্যাকস, এ আর এমন কী! কিন্তু গবেষণা বলছে, এই ছোট অভ্যাসই হয়তো ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরের চিত্র।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার, যেমন চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, মিষ্টি, প্রসেসড মাংস বা ঠান্ডা পানীয়, নিয়মিত খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। শুধু তাই নয়, কমতে পারে মনোযোগ, চিন্তা-প্রক্রিয়াতেও ঘটতে পারে ব্যাঘাত। অর্থাৎ, প্রভাবটা শুধু ভবিষ্যতের নয়, শুরু থেকে ধীরে ধীরে পড়তে থাকে তার ছাপ।
বাড়ায় ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি! ছবি: সংগৃহীত
সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য, দৈনন্দিন খাবারের মাত্র ১০ শতাংশ যদি এই ধরনের আল্ট্রা-প্রসেসড হয় (প্রায় এক প্যাকেট চিপসের সমান), তাতেই বাড়তে থাকে ডিমেনশিয়ার মতো অসুখের ঝুঁকি। আর এই পরিমাণ যত বাড়ে, ততই বাড়ে স্মৃতিভ্রংশ ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা।
কম খেলেই ক্ষতি হবে না- এই ধারণা ভুল
গবেষণা বলছে, এখানে নিরাপদ সীমা বলে কিছু নেই। কারণ এই খাবারগুলোতে থাকে অতিরিক্ত চিনি, ট্রান্স ফ্যাট, কৃত্রিম রং-গন্ধ, কিন্তু থাকে না প্রয়োজনীয় পুষ্টি, যেমন ফাইবার, ভিটামিন বা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ফলে শরীরে তৈরি হয় প্রদাহ, বাড়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, যা মস্তিষ্কের কোষেরও ক্ষতি করতে পারে।
আরও উদ্বেগের বিষয়, যারা নিয়মিত ফল-সবজি খান, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায়নি। অর্থাৎ, ডায়েটে স্বাস্থ্যকর খাবার যোগ করলেই হবে না, অস্বাস্থ্যকর খাবার কমানোও সমান জরুরি।
আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চুলুন। ছবি: সংগৃহীত
এখনই প্রভাব, পরে আরও বড় ঝুঁকি
গবেষকরা জানিয়েছেন, বেশি আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার খেলে স্বল্পমেয়াদেও মনোযোগ কমে যেতে পারে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ধীর হয়ে যেতে পারে। প্রথমে এই পরিবর্তনগুলো তেমন চোখে পড়ে না, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এগুলো জমে তৈরি করতে পারে বড় সমস্যা, যেমন ডিমেনশিয়া।
তাহলে কী করবেন?
পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়তো কঠিন, কিন্তু সচেতন হওয়া জরুরি। ছোট ছোট বদলই পারে বড় সুরক্ষা দিতে। চিপসের বদলে ফল, বিস্কুটের বদলে বাদাম, ইনস্ট্যান্ট খাবারের বদলে বাড়ির রান্না। কারণ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য একদিনে তৈরি হয় না, এটা গড়ে ওঠে প্রতিদিনের অভ্যাসে। আজকের এক প্যাকেট চিপস হয়তো তৎক্ষণাৎ ক্ষতি করে না, কিন্তু প্রতিদিনের পুনরাবৃত্তি? সেখানেই লুকিয়ে নিঃশব্দ বিপদ।
