রাজ্যের নির্বাচন (Assembly Election 2026) ঘোষণা হয়েছে প্রায় দু'সপ্তাহ হতে চলল। একে একে রাজ্যের সব প্রধান রাজনৈতিক দল প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। ভোট ঘোষণার পরই প্রথমে সিপিএমের প্রথম তালিকা, তারপর বিজেপির প্রথম তালিকা প্রকাশিত হয়। একদিন পরই ২৯১ আসনের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর একে একে আরও তালিকা প্রকাশ করে বাম ও বিজেপি। আইএসএফ, এমনকী সদ্য গঠিত আমজনতা উন্নয়ন পার্টিও নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু কংগ্রেস।
প্রায় ২০ বছর পর রাজ্যে ২৯৪ আসনে একক শক্তিতে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রদেশ কংগ্রেস। দিল্লিতে একযোগে সেই ঘোষণায় খুশি হয়েছিলেন তৃণমূল স্তরের বহু সাধারণ কংগ্রেস কর্মীই। প্রদেশের তরফে রাজ্যজুড়ে কর্মীদের দেওয়াল দখল, রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়। তাতেও উৎসাহ বাড়ে কর্মীদের। কিন্তু সেই 'খুশি' বা 'উৎসাহ' বেশিদিন স্থায়ী হল না। আসলে প্রদেশ নেতৃত্ব ২৯৪ আসনে লড়ার ঘোষণা করলেও প্রস্তুতির যে খামতি ছিল, সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল এ পর্যন্ত প্রার্থী ঘোষণা করতে না পারায়। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা যখন মাঠে নেমে জোরকদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন কংগ্রেস কর্মীরা হতাশ।
এমনকী টিকিটপ্রার্থীরাও দলের রাজ্য ও কেন্দ্র নেতৃত্বকে দোষারোপ শুরু করছেন। কিছু কিছু সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের মতো করে প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন। এবার শুরু থেকেই জল্পনা ছিল, কংগ্রেস রাজ্যে নিজেদের সব হেভিওয়েটকে লড়াইয়ে নামাবে। সেই মতো কিছু কিছু হেভিওয়েট প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্তর থেকে প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় শেষমেশ অধীর চৌধুরী, মোহিত সেনগুপ্ত, আলি ইমরান রামজ ভিক্টর, অমল আচার্যদের অনুগামীরা নিজেদের নেতাদের প্রার্থী হিসাবে ধরে নিয়ে প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন। কর্মীরা যে হতাশ, সেটা প্রকাশ্যেই বলছেন ভিক্টরের মতো নেতারা।
তবে এসব হতাশার মধ্যে কংগ্রেস কর্মীদের জন্য কিঞ্চিৎ স্বস্তির খবর। সব ঠিক থাকলে শনিবারই কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা (Congress Candidate List) ঘোষণা করে দেওয়া হতে পারে। শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখানে রাজ্যের প্রথম সারির নেতাদের ডাকা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে ওই বৈঠকের পরই একযোগে সব আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে দিতে পারে হাত শিবির।
