shono
Advertisement

একজন ছুটলেন, বাকিরা শান্ত! ভোট প্রথমায় কেমন মেজাজে হেভিওয়েট বিরোধীরা?

তাঁরা প্রত্যেকেই বঙ্গ রাজনীতির রঙ্গ মঞ্চের প্রথম শ্রেণির চরিত্র। প্রত্যেকের লড়াই আলাদা আলাদা। ভোটের দিন অতীতে একাধিকবার চারজনকেই মেজাজ হারাতে দেখা গিয়েছে।
Published By: Subhajit MandalPosted: 12:12 AM Apr 24, 2026Updated: 12:12 AM Apr 24, 2026

তাঁরা প্রত্যেকেই বঙ্গ রাজনীতির রঙ্গ মঞ্চের প্রথম শ্রেণির চরিত্র। প্রত্যেকের লড়াই আলাদা আলাদা। ভোটের দিন অতীতে একাধিকবার চারজনকেই মেজাজ হারাতে দেখা গিয়েছে। কথা হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, অধীর চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীরের। কেমন কাটল তাঁদের ভোট?

Advertisement

শুভেন্দু অধিকারী:
বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি আগ্রাসী নেতা। কিন্তু বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম দেখল তাঁর শান্ত রূপ। সেভাবে উত্তেজনা করতে দেখা গেল না। গোটা দিনই প্রায় শান্ত রইলেন। এদিন সকাল সকালই নন্দীগ্রামে পৌঁছে নন্দনায়কবাড় এলাকার একটি বুথে ভোট দেন তিনি। এরপর দিনভর বুথে বুথে ঘুরে ভোট দেখেন। কখনও কর্মীদের ক্যাম্প অফিসে গেলেন, কখনও কর্মীদের কাছে ভোটের খোঁজ নিলেন। মাঝে কর্মীদের অনুরোধে ত্রিপলের উপর বসেই মুড়ি এবং ঝুরিভাজাও খেয়েছেন। নন্দীগ্রামে এবার লড়াই কিন্তু বেশ কঠিন। সেই কঠিন লড়াইয়ে 'শান্ত' শুভেন্দুর ভাগ্য কী বলছে, জানা যাবে ৪ মে।

শুভেন্দু অধিকারী। নিজস্ব চিত্র।

দিলীপ ঘোষ:
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও ভোট দিয়েছেন সকাল সকাল। গত লোকসভায় খড়গপুরে বিজেপি দিলীপ ঘোষকে প্রার্থী করেনি। এবার বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে খড়গপুর সদরে প্রার্থী করে। দিনভর এলাকায় ঘুরেছেন। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন। সকালে ইডলি-বড়া সহযোগে প্রাতরাশ সারেন তিনি। এরপর সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা পরে বেরিয়ে পড়েন। এদিন খড়গপুরের সেরোসা স্টেডিয়ামের ২৬৩ নম্বর বুথে ভোট দেন দিলীপ। ভোট নিয়ে হাসিমুখে বেরিয়ে দিলীপ বলেন, “খড়গপুরে মানুষ সকাল থেকেই ভোটের লাইনে। মানুষ ভোট দিচ্ছেন শান্তিপূর্ণভাবে।” দিনের শেষে বিপক্ষ প্রার্থীর সঙ্গে করমর্দনও করেন তিনি।

ভোট নিয়ে ফিরলেন দিলীপ। নিজস্ব চিত্র

অধীর চৌধুরী:
৩০ বছর পর তিনি বিধানসভার লড়াইয়ে। চ্যালেঞ্জ বেশ কঠিন ছিল। দু’বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে বেশ অস্থির দেখিয়েছিল তাঁকে। দিনভর ছোটাছুটিও করেছেন। তুলনায় অধীর চৌধুরীকে এবার বেশ শান্ত দেখাল। দিনভর তিনিও বুথে বুথে ঘুরেছেন। ভোটকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এদিনও তাঁকে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। তবে মেজাজ হারাননি। বিকালের পর কিছুটা তাল কাটে। কংগ্রেসের এক এজেন্ট আক্রান্ত হওয়ায় এলাকায় গিয়ে মাঠেই বসে পড়েন তিনি। যদিও সার্বিকভাবে কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ভোটের দিন অধীর। নিজস্ব চিত্র।

হুমায়ুন কবীর:
রাজ্যে নতুন দল খোলার পর এটাই তাঁর প্রথম নির্বাচন। নিজে দুই কেন্দ্রে লড়েছেন। নওদা এবং রেজিনগর। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি নওদায় ছিলেন। সেখানে বারবার বাধার মুখেও পড়লেন। তাঁকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। মেজাজ হারিয়ে পালটা বিক্ষোভকারীদের দিকে তেড়ে যান আমজনতা উন্নয়ন পার্টি সুপ্রিমো। যা নিয়ে একেবারে তুমুল ধ্বস্তাধস্তি পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন হুমায়ুন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিশাল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেন তাঁরা। যদিও ঘটনার পরেই রাস্তার উপরে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি করতেই তৃণমূল এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এর শেষ দেখে ছাড়ব। যদিও পরে তিনি জানান, অশান্তি হচ্ছে মাত্র কয়েকটা বুথে বাদবাকি নওদা-রেজিনগরে ভালো ভোট হয়েছে।

তুমুল বিক্ষোভের মুখে হুমায়ুন কবীর।

অতএব, চার হেভিওয়েটের মধ্যে একমাত্র হুমায়ুন কবীর ছাড়া বাকিরা শান্তশিষ্ট ভাবেই ভোট করলেন। আসলে এবারের ভোটে বিশেষ অভিযোগ করার জায়গাও ছিল না। এখন দেখার এই চারজনের মধ্যে ৪ মে কে কে বিধানসভায় যান।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement