ভোটের বাজারে কেউ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাসের পর মাস, আবার কেউ কেউ আছেন- ঠিক পিকনিকের মতো! ব্যাগ গুছিয়ে বেরোলেন, ছবি তুললেন, আর বাস ছাড়ার আগেই বাড়ি ফিরে এলেন। ওন্দা বিধানসভা কেন্দ্রে এমনই এক ‘একদিনের রাজনৈতিক পিকনিক’-এর গল্প এখন মুখে মুখে ঘুরছে - আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী মতিবুল খানের সৌজন্যে।
ঘটনার শুরুটা একেবারে সিনেমার মতো। কাকার কাছ থেকে টাকা ধার করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হাজির মতিবুল। মুখে এমন আত্মবিশ্বাস, যেন মন্ত্রিসভায় ঢোকার টিকিট পকেটেই। ওন্দা ব্লক অফিস চত্বরে তখন তাঁর হাঁটার ভঙ্গি দেখে অনেকেই বলেছিলেন, “এবার বুঝি বড়সড় কিছু হতে চলেছে!” কিন্তু সেই ‘বড়সড় কিছু’র বেলুনে যে এত তাড়াতাড়ি হাওয়া বেরিয়ে যাবে, তা কে জানত! মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পরেই আবার একই অফিসে হাজির মতিবুল-তবে এ বার আর বিজয়ীর ভঙ্গিতে নয়, বরং পরীক্ষার হলে খাতা জমা দিয়ে ভুল বুঝতে পেরে ফেরত নিতে চাওয়া ছাত্রের মতো। চুপিসারে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন বিয়ের ব্যান্ড বুক করে, প্যান্ডেল বেঁধে, শেষে বরই পালিয়ে যাওয়ার মতো কাণ্ড!”
চায়ের দোকানে এখন এই ঘটনাই ‘হট কেক’। এক দোকানির রসিকতা, “মনোনয়নটা বুঝি ফ্রি ট্রায়াল ছিল-২৪ ঘণ্টা ব্যবহার করে আবার রিটার্ন!” আর এক বৃদ্ধের মন্তব্য, “এ তো দেখছি ভোট নয়, ‘একদিনের মেলা’-ঢুকলেন, ঘুরলেন, বেরিয়ে গেলেন!” এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও কম কটাক্ষ শোনা যাচ্ছে না। তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা ওন্দার তৃণমূল প্রার্থী কটাক্ষ করে বলেন, “ভোটে দাঁড়ানো মানে মানুষের বিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা। এটা কোনও সিনেমার ট্রেলার নয় যে দেখিয়ে আবার ছবি বন্ধ করে দিলাম। ২৪ ঘণ্টায় মনোনয়ন তুলে নেওয়া মানে ভোট প্রক্রিয়াকে মজার খেলায় পরিণত করা।” অন্যদিকে, বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তাপস বসুও খোঁচা দিতে ছাড়েননি। তাঁর কথায়, “শুধু পোস্টার টাঙালেই নেতা হওয়া যায় না। মাঠে নামলে ঘাম ঝরাতে হয়। অনেকেই আলোয় আসতে চান, কিন্তু আলোটা একটু গরম হলেই ছায়ায় পালিয়ে যান-এ ঘটনাই তার প্রমাণ।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ছোট দলগুলির প্রার্থী দেওয়ার তাড়াহুড়ো অনেক সময় এমন ‘হঠাৎ উড়ে যাওয়া ঘুড়ি’-র মতো হয়-একটু হাওয়া পেতেই উড়ল, আবার সুতো ছিঁড়তেই সোজা মাটিতে! মতিবুল খানের ২৪ ঘণ্টার এই রাজনৈতিক সফর এখন ওন্দার লোককথায় ঢুকে পড়েছে-যেন ‘একদিনের রাজা, পরদিন প্রজা’ গল্পের আধুনিক সংস্করণ। ওন্দার মোড়ে মোড়ে এখন নতুন নতুন ঠাট্টা তৈরি হচ্ছে। কেউ বলছেন, “কাকার টাকা ধার নিয়ে রাজনীতি শুরু, এখন কাকা বুঝি টাকা ফেরতের তারিখ চাইছেন!” আবার আর একজনের মন্তব্য, “মনোনয়ন জমা দিলেন ঠিকই, কিন্তু ভোটের মাঠে নামার আগেই বুঝি হাঁপিয়ে গেলেন-যেন মাঠে নামার আগে ফুটবলারের জুতো খুলে রাখা!” সবমিলিয়ে, ভোটের গুরুগম্ভীর আবহের মাঝেই মতিবুল খানের এই ২৪ ঘণ্টার ‘রাজনৈতিক অভিযান’ এখন ওন্দার চায়ের কাপের সবচেয়ে বড় ঝড়। আর সেই ঝড়ে হাসির ঢেউ উঠছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
