জল্পনা সত্যি করে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবারই এই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেখানেই নিজের সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরেন বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের পাঁচবারের সাংসদ। দেখে নেওয়া যাক তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্পত্তির পরিমাণ।
অধীরের হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অধীরের বার্ষিক আয় ছিল ২৫ হাজার ৭০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তিনি আয় করেন ১১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২২০ টাকা। অধীরের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে জমায়েত করা, গোষ্ঠী সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়া, তদন্তকারী আধিকারিককে হমকি দেওয়া-সহ মোট ৫টি অভিযোগে মামলা রয়েছে। বর্তমানে তাঁর হাতে রয়েছে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা। অধীরের স্ত্রী অতসী চ্যাটার্জি চৌধুরী ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় করেছেন ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৫৭০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয়ের পরিমাণ ২০ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৪০ টাকা। বর্তমানে অতসীর হাতে রয়েছে ৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।
অধীরের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৬০২ টাকা।
একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পার্লামেন্ট হাউস ব্রাঞ্চে তাঁর অ্যাকাউন্টে ৬ লক্ষ ১৮ হাজার ৭৬৯ টাকা রয়েছে। ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে দু'টি এলআইসির পলিসি আছে তাঁর। অধীরের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। অধীরের কাছে ২০০ গ্রাম সোনা রয়েছে। বর্তমানে এর বাজারমূল্য ২৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর একটি গাড়ি আছে। অধীরের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৬০২ টাকা। অধীরের স্ত্রী অতসীর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর কাছে ৭৩০ গ্রাম সোনা রয়েছে। বর্তমানে এই সোনার বাজারমূল্য ১ কোটি ৭৪ হাজার টাকা। অতসীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৩৪ টাকা।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে প্রথমবার লোকসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অধীর চৌধুরী। ১৯৯১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। ১৯৯৬-এর পর ২০২৬ সালে অধীর চৌধুরী আরও একবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ১৯৯৯ সাল থেকে পরপর পাঁচবার অধীর বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে প্রায় ৮৫ হাজার ভোটে পরাজিত হন তিনি। এরপর ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস।
