অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চর্চায় এসেছিলেন বনগাঁর তনয় শাস্ত্রী। থানা-পুলিশ, জল গড়িয়েছিল অনেকদূর। মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের মুখে এবার বিজেপিতে যোগ দিলেন সেই তনয় শাস্ত্রী। হাবরার একটি অনুষ্ঠানে বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের হাত থেকে দলীয় পতাকা হাতে নেন তিনি। রাখঢাক না করেই তিনি জানালেন, রাজনীতিকে ব্যবহার করে তাঁকে অপদস্থ করা হয়েছিল। সেই কারণেই সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। বনগাঁ নয়াগোপালগঞ্জে যুবক সংঘের পরিচালনায় বাৎসরিক অনুষ্ঠান ঘিরেই অশান্তির শুরু। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রী অভিনেত্রীকে হেনস্তা করে বলেই অভিযোগ। সোশাল মিডিয়ায় এই বিষয়ে সরব হন প্রাক্তন সাংসদ-অভিনেত্রী। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন ক্লাব সদস্যরা। ক্লাব সদস্যদের দাবি, “নির্দিষ্ট সময়ের ঘন্টাখানেক পর মিমি চক্রবর্তী মঞ্চে আসেন। বারোটা পর্যন্ত আমাদের অনুষ্ঠানের অনুমতি নেওয়া ছিল। তাই তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হয়।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বনগাঁ থানায় হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেন মিমি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। মিমি চক্রবর্তী বনগাঁ মহকুমা আদালতে গোপন জবানবন্দিও দেন। পরে তনয় শাস্ত্রী জামিনে মুক্তি পান, বনগাঁ থানায় অভিযোগও জানান।
তবে এখানেই শেষ হয়নি। বনগাঁ আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। সাফ জানিয়েছিলেন শেষ দেখে ছাড়বেন। এসবের মাঝেই বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন তনয়। তিনি বলেন, তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে অপদস্ত করা হয়েছে, এটি তাঁর বিজেপিতে যোগ দানের একটি কারণ। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি পছন্দ করেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের শরিক হতে চেয়েও যোগদানের সিদ্ধান্ত বলে জানান তনয়। তাঁর এই যোগদানকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
