সান্দাকফুতে ভারী তুষারপাতের রেশ হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু শৈলশহরে বসে ভালো টের পাচ্ছেন পর্যটকরা। তাপমাত্রার পারদ নেমে ঘুরপাক খাচ্ছে ৭ ডিগ্রি থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। যদিও ভোটের ময়দানে উলটো ছবি। সেখানে উত্তাপ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। লড়াই ত্রিমুখী হলেও যেন সম্মুখসমরে বিমল গুরুং এবং অজয় এডওয়ার্ড। দুই নেতার চ্যালেঞ্জ, পালটা চ্যালেঞ্জের তরজায় টগবগ করে ফুটছে শৈলশহরের ম্যাল থেকে জনবহুল চৌরাস্তার মোড়।
এবার দার্জিলিং বিধানসভা আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। ওই তিন শক্তির মধ্যে একদিকে রয়েছে তৃণমূল সমর্থিত অনীত থাপার নেতৃত্বাধীন গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার প্রার্থী বিজয় রাই। অন্যদিকে বিজেপি সমর্থিত বিমল গুরুং নেতৃত্বাধীন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার যুবনেতা নোমান রাই এবং ভারতীয় গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট-এর প্রধান অজয় এডওয়ার্ড। কার্যত রবিবার ভারতীয় গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে পুরো ছবি পালটে গিয়েছে। বিমল গুরুং নিজে প্রার্থী না-হলেও দার্জিলিং আসনটি পাহাড়ে তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্বের নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
গুরুং নিজেও সেটা অনুভব করছেন। তাই হয়তো প্রচারে বেরিয়ে বলেন, "অজয় এডওয়ার্ডের ভারতীয় গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট-এর সঙ্গে নির্বাচনী জোট নিয়ে আলোচনার জন্য অপেক্ষা করেছি। উনি সময় দেননি। উলটে দলের নেতৃত্বের মাধ্যমে বলেছেন দার্জিলিং ও কার্শিয়াং দুই আসনে ভারতীয় গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট জিতবে।" এরপরই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, "যদি দার্জিলিং আসনে তিনি জিততে পারেন তবে আমি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেব।" চ্যালেঞ্জ লুফে নিয়েছেন অজয় এডওয়ার্ড। তিনি বলেন, "আমি বারবার বিমল গুরুংকে বিজেপি ও তৃণমূল দল থেকে টাকা নিতে নিষেধ করেছি। উনি শুনছেন না। এরপর আর জোট করা সম্ভব! উনি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস গ্রহণের যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সেটা গ্রহণ করছি।"
শুধু দুই নেতা নয়। ত্রিমুখী লড়াইয়ের মধ্যে অজয় এডওয়ার্ডের নতুন দলের উত্থান কতটা প্রভাব ফেলে সেটা নিয়ে শৈলশহরের সর্বত্র চর্চা চলছে। জিটিএ নির্বাচনে বিরাট ধাক্কা খেয়েছেন অজয়। দার্জিলিং পুরসভার ক্ষমতা হারানোর ক্ষত এখনও মোছেনি। স্বভাবতই দার্জিলিং আসনের লড়াই শুধু বিমল গুরুংয়ের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই নয়। একইভাবে অজয় এডওয়ার্ডয়েরও অস্তিত্বের লড়াই হতে চলেছে।
একসময় অজয়ের হামরো পার্টি দার্জিলিং পুরসভা দখল করলেও পরে শিবির বদলের হাত ধরে পুরসভা ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার অনীত থাপাদের দখলে চলে যায়৷ অন্যদিকে স্বমহিমায় ফিরতে এক সময়ের পাহাড় রাজনীতির মুকুটহীন সম্রাট গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুংয়েরও নজর দার্জিলিং আসনের দিকে৷ সবমিলিয়ে দার্জিলিং জমজমাট!
