বিজেপির তারকেশ্বরের প্রার্থী সন্তু পান ও তাঁর সমর্থকের বিরুদ্ধে মহিলা সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ। সম্প্রচারের জন্য তোলা ভিডিও ডিলিট করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কথা মতো কাজ না করলে বুঝে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি, 'হেনস্তা'র মুখে পড়া মহিলা সাংবাদিকের।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদল লিখেছে, "নির্বাচনী প্রচারের খবর সংগ্রহ করতে আসা মহিলা সাংবাদিককে সন্তু ও তাঁর সমর্থকরা হয়রানি, কটূক্তি, হেনস্থা ও অপমান করেছে। এটাই বিজেপির বংশপরিচয়। এদের মুখ চিনুন।"
তারকেশ্বেরে একটি এলাকায় ভোট প্রচারে বেরিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী সন্তু। সম্প্রচারের জন্য সেখানে যান এক মহিলা সাংবাদিক ও তাঁর সহকর্মী। কাজের অঙ্গ হিসাবে তাঁরা অনেকগুলি ভিডিও করেন। কিন্তু সন্তু ও তাঁর সমর্থকরা ভিডিও ডিলিট করার জন্য 'চাপ' দিতে থাকেন বলে অভিযোগ।
সাংবাদিক ও তাঁর সহকর্মী রাজি না হওয়ায় তাঁদের 'কর্নার' করে ৩০-৩৫ জন ঘিরে ধরেন বলেন অভিযোগ মহিলা সাংবাদিকের। তিনি বলেন, "আমাদের কাছে একটি ফোন ও বুম ছিল। আমার সহকর্মীর থেকে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। বলা হয় ক্লিপ ডিলিট কর। না হলে আমরা বুঝে নেব। কী বুঝে নেবে জানি না। কিন্তু এটা একদম মেনে নেওয়া যায় না।"
বিতর্কিত ভিডিও তুলে ধরে পোস্ট করেছে তৃণমূল। সন্তু ও বিজেপিকে আক্রমণ করে তারা লেখে, 'সন্তু পানের কথা মনে আছে? যে সাংবাদিককে এক মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। মেরুদণ্ডহীন কাপুরুষ। বিজেপির চাটুকার। সেই 'সাংবাদিক' সন্তু পান এখন তাঁর পরিচয় বদলে তারকেশ্বর থেকে বিজেপির প্রার্থী। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের খবর সংগ্রহ করতে আসা এক মহিলা সাংবাদিককে তিনি ও তারঁ সমর্থকরা হয়রানি, কটূক্তি, হেনস্থা ও অপমান করেছে। সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করা হয়েছে। সাংবাদিক মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হন। ক্যামেরার সামনে তাঁকে হাপাতে দেখা গিয়েছে। এটাই বিজেপির বংশপরিচয়। এদেরকেই তারা প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করায়। এদের মুখ চিনুন।"
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে সন্তু নিজে পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। কীভাবে কাজ হয় সেই সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল। তারপরও কী করে মহিলা সাংবাদিককে ভিডিও ডিলিট করা জন্য চাপ দিলেন তিনি।
