ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণার পর থেকে তৃণমূলে ভাঙন। একের পর এক রাজ্যসভার সাংসদ ইস্তফা দিচ্ছেন। বর্তমানে বাকি রয়েছেন আর মাত্র ৯ জন। এই পরিস্থিতিতে বাবুল সুপ্রিয়র অবস্থান নিয়েও তুঙ্গে জল্পনা। তারই মাঝে দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে জল্পনা জিইয়ে রাখলেন রাজ্যসভার তারকা সাংসদ।
বাবুল লেখেন, 'আমি খুশি হব, যদি যা লিখছি তা সত্যিই বুঝতে পারেন। যদি এই লেখার পর মজার ইমোজি দিতে যান, তাও দিতেই পারেন, তবে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ ফেসবুক পোস্টটি পড়তে হবে।
১. একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রশ্নে ক্লান্ত। সকলেই জিজ্ঞাসা করছেন, কোনদিকে আমি, কোনদিকে আমি? দল এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে আমি যেখানে ছিলাম, সেখানেই আছি।
২. বাংলার মানুষ বিজেপি ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমি আগামিদিনে নিশ্চয়ই কাজ করব। সাংসদ তহবিলের বছর পিছু ৫ কোটি টাকা মানুষের স্বার্থে ব্যবহার করব।'
৩. এটা আমার কাছে নতুন নয়। রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের হয়ে লড়াই করলেও, আমি সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। যেভাবে একসময় মানুষ তৃণমূলকে সমর্থন করেছিল। এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনকে সমর্থন করেছিল। এদিকে, আমার নিজের দলের অনেকেই 'ঝালমুড়ি পর্বে' আমাকে সমালোচনা করেছেন। তা সত্ত্বেও আমি আসানসোলের সমস্যা সমাধানে সমস্ত কাজ করেছি।
৪. আমি চেষ্টা করেছি সাংসদ তহবিলের ৯০ শতাংশ টাকা বাংলার উন্নয়নে ব্যবহার করার। বাকি ১০ শতাংশ টাকা দেশের যেকোনও প্রান্তে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য রেখেছি।
৫. বাংলার মানুষ, বিশেষত শিশুদের রোগ নিয়ে 'প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে' টাকা চেয়ে যাব।
৬. আমি আবারও বলছি যে, ব্যক্তিগতভাবে আমার কারও বিরুদ্ধে কোনও বিদ্বেষ নেই, এবং প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। তবে, এদের সকলেরই একটি বিশাল কমলা রঙের বটগাছের নিচে, ৪ মে সন্ধ্যার পর বা তারপরে হঠাৎ ‘জ্ঞানপ্রাপ্তি’ হওয়ার ঘটনাটি আমার কাছে বেশ মজার। আর তাঁদের সাক্ষাৎকারগুলোতে স্পষ্ট ‘ভারসাম্য রক্ষার কসরত’। যা লুকিয়ে রাখা যায় না। সেগুলো তো আরও হাস্যকর বলে মনে হয়।
৭. যারা এই ধরনের দুর্নীতি ও প্রকাশ্যে জনগণের অর্থ লুটপাটের জন্য আশ্রয় নিয়েছে, আমি তাদের কাউকেই সমর্থন করব না। তাদের জেলেই থাকা উচিত, আর নরকেও যাওয়া উচিত।৮. আমি আশা করি তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। তবে যারা বিজেপিতে থাকে বা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অভিযোগমুক্ত হয়ে যায়, সেটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিতর্ক, যা নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকবে।
৯, আমি দিল্লিতে নই - একেবারে অধিবেশনে যোগ দিতে যাব।
আপাতত আমি আমার ঠাকুরদার শিক্ষা অনুযায়ী শান্তি, একাকীত্ব এবং সঙ্গীতে ডুবে থাকেতে চাই। আমি মনে করি সমস্ত প্রশ্নের জবাব পেয়েছেন। আমি কোনও সাক্ষাৎকার দেব না।'
এই প্রথমবার নয়। এর আগেও মুখ খুলে জল্পনা উসকে দিয়েছেন বাবুল। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে আসানসোল থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন বাবুল। ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠও। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন সফলভাবে। নিজের সংসদ এলাকায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও ছিল তাঁর। যার ফলস্বরূপ ২০১৯ সালে ভোট বাড়িয়ে আসানসোল থেকে দ্বিতীয়বার বিজেপি সাংসদ হন। কিন্তু তারপরেও মোদির মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রিত্ব মেলেনি। উলটে বাংলার বিধানসভা ভোটে তাঁকে প্রার্থী করা হয়। তখন থেকেই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল বাবুলের। পরে কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর মন্ত্রিত্বও। এই অপমান আর সইতে পারেননি বলিউডের জনপ্রিয় শিল্পী। ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে সরিয়ে নিতে থাকেন নিজেকে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অনেক চেষ্টা করেও সেই বরফ গলাতে পারেনি। তারপর কিছুদিনের বিশ্রাম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন বাবুলের। ২০২২ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে বালিগঞ্জ থেকে জিতে বিধায়ক। রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি এবং পর্যটন মন্ত্রীও হন। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ। তৃণমূলের ভরাডুবির মাঝে বারবার তাঁর ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
