চুল নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। কখনও রুক্ষতা, কখনও-বা ডগা ফেটে যাওয়ার ভয়। নামী ব্র্যান্ডের কন্ডিশনার মেখেও অনেক সময় সুরাহা মেলে না। অথচ রান্নাঘরের একটি বিশেষ উপাদানেই এই সমস্যা থেকে রেহাই মিলতে পারে। ত্বকের যত্ন নিতে মধুর জুড়ি মেলা ভার। একথা আমরা সকলেই জানি। তবে কেবল ত্বক নয়, চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতেও ম্যাজিকের মতো কাজ করে মধু। সঠিক প্রয়োগে রেশমের মতো নরম ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে চুল। কীভাবে জানেন?
ছবি: সংগৃহীত
চুলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ
মধুর মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক ক্ষমতা। এটি চুলে পুষ্টির জোগান দেয়। চুলের উপরিভাগে এক অদৃশ্য সুরক্ষাকবচ তৈরি করে মধু। ফলে চুলের বাইরের স্তর সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। রুক্ষতা দূর করে চুলকে সিল্কি ও উজ্জ্বল করতে এর কোনও বিকল্প নেই।
চুল পড়া কমায়
স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক সুস্থ না থাকলে চুলের বৃদ্ধি থমকে যায়। চুল ঝরতে শুরু করে। মধু এখানে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। মাথার ত্বকে কোনও সংক্রমণ বা ইনফেকশন থাকলে তা দূর করতে সাহায্য করে। মধুতে থাকা প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক। এটি খুশকির সমস্যা দূর করতেও সমান কার্যকরী। নিয়মিত ব্যবহারে চুল পড়ার সমস্যাও কমে। ফলে নতুন চুল গজায় দ্রুত।
চুলের হারানো ঔজ্জ্বল্য ফেরায়
আজকাল দূষণের কারণে চুলের স্বাভাবিক জেল্লা হারিয়ে যায়। চুলে শাইন ফিরিয়ে আনতে মধুর জুড়ি মেলা ভার। মধুতে ‘গ্লুকোজ অক্সিডেস’ নামের একটি উপাদান রয়েছে। এটি চুলের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে। অনেকেই ডগাফাটা দু’মুখো চুলের সমস্যায় ভোগেন। চুলের কিউটিকল নষ্ট হয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা যায়। মধু চুলের গোড়া মজবুত করে কিউটিকলকে রক্ষা করে। ফলে দু’মুখো চুলের উৎপাত থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
চুলে মধু ব্যবহারের কিছু সহজ উপায় রয়েছে। ঈষদুষ্ণ গরম জলে কিছুটা মধু মিশিয়ে নিন। এবার সেই জল দিয়ে মাথার ত্বকে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। এছাড়া নারকেল তেলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে চুলে মাখতে পারেন। শ্যাম্পু করার আগে মধু ও টক দই একসঙ্গে ফেটিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এই হেয়ার মাস্ক চুলে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। তারপর ধুয়ে ফেলুন। রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব এড়িয়ে এভাবেই চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে।
