ভোটের মুখে বীজপুরে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ ঘিরে তীব্র জল্পনা। বৃহস্পতিবার বীজপুরের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস, যাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে, যিনি আদালতের নির্দেশে এতদিন এলাকাতেই ঢুকতে পারেননি, সেই প্রার্থী হঠাৎই পৌঁছে যান সদ্যপ্রয়াত তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী মুকুল রায়ের বাড়িতে। 'বন্ধুসম' মুকুলপুত্র প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে দেখা করতে। আর সাক্ষাৎ ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠে গেল, নিছক সৌজন্য, না কি অন্য কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত? তবে এসব জল্পনা উড়িয়ে শুভ্রাংশুর সাফ বার্তা, “আমি তৃণমূলের হয়েই আছি এবং তৃণমূলে থেকেই লড়ব। এনিয়ে কোনও বিভ্রান্তির জায়গা নেই।”
ঘটনার কেন্দ্রে থাকা বীজপুরের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস অবশ্য একে 'ব্যক্তিগত সম্পর্কে'র পরিসরেই রাখতে চান। তাঁর কথায়, “আমি কাঁচরাপাড়ার ছেলে। এলাকার প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়ের মৃত্যুর খবর পেয়েও কোর্টের বিধিনিষেধের কারণে আসতে পারিনি। এদিন এসে শ্রদ্ধা জানালাম। শুভ্রাংশু রায় আমার অনেকদিনের বন্ধু। তাঁর সঙ্গে দেখা করে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছি। এটা কোনও ভোটের আবেদন নয়, তাঁর কাছে আশীর্বাদ চেয়েছি যেন বীজপুরের মানুষের জন্য কাজ করতে পারি।”
বীজপুরের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস। নিজস্ব ছবি
এভাবে কি এলাকায় সবার ঘরে ঘরে জনসংযোগ সারবেন? বিজেপি প্রার্থীর জবাব, “নিশ্চয়ই যাব সকলের বাড়িতে। এমনকী এখানকার তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারীর বাড়িও যেতে চাই। কিন্তু তিনি তো দুর্গের ভিতরে থাকেন। আমার মতো সাধারণ মানুষ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারব কিনা, সেটা একটা ব্যাপার।'' আত্মবিশ্বাসী সুরে সুদীপ্ত দাসের আরও দাবি, “৪ মে-র পর বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা তখন তৃণমূলের লোকজনকে বুকে জড়িয়ে নেব। বলব, রাজনীতি রাজনীতির মতো করে করুন। কোনও হিংসা, রক্তপাত নয়।''
বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে আসা নিয়ে শুভ্রাংশুরও একই সুর। সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে দাবি করে মুকুলপুত্র বলেন, “সুদীপ্ত আমার জুনিয়র। এসে বাবার ছবিতে প্রণাম করেছে, মায়ের ছবিতেও প্রণাম করেছে। আমি পিতৃহারা হওয়ার পর ও আসতে পারেনি। এখন এসে পাশে দাঁড়িয়েছে। এটা নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ। ভোট চাওয়ার বিষয় নয়, হলে এভাবে দিনের আলোয় আসত না।” তিনি এও জানান, “ও ভালো রেজাল্ট করুক, সেই কামনাই করি।” তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ভোটের ঠিক আগে এই ‘সৌজন্য’ কি কেবল সম্পর্কের টান, না কি রাজনৈতিক বার্তা? বীজপুরে এই সাক্ষাৎ ঘিরে চর্চা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
