প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় গত কয়েকদিন আগেই দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এবার খোদ দলের প্রার্থীকেই তাড়া! শুধু তাই নয়, দিলেন ‘গো ব্যাক’, ‘দূর হঠো’ স্লোগান। রবিবাসরীয় প্রচারে গিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে যান বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদার। এই অবস্থায় কোনওরকমে গাড়িতে উঠে এলাকা ছাড়েন তিনি। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বহিরাগত বিজেপি প্রার্থীকে কোনওভাবেই তাঁরা মানবেন না। এই অবস্থায় কলকাতা থেকে যাওয়া সিদ্ধার্থ মজুমদারকে কেন্দ্র করে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের অবস্থা যে নাজেহাল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও এই ঘটনায় একেবারে 'স্পিকটি নট' জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, কালনা বিধানসভায় এবার প্রার্থী হিসাবে সিদ্ধার্থ মজুমদারের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। আর তা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছে। যদিও তার আগে থেকেই কালনায় বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে আসে। দু-দিন আগেই বিজেপির নগর মন্ডলের সভানেত্রী থেকে কয়েকজন মন্ডল সভাপতি ‘বহিরাগত’ প্রার্থীকে মানছেন না বলে প্রতিবাদে সরব হয়ে রাস্তায় নেমে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখান। যদিও তার আগেই ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করতে চেয়ে প্রার্থী পরিবর্তনের ডাক দিয়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধেও নামে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। এখানেই শেষ নয়, তার মধ্যেই কালনায় থাকা জেলা কার্যালয়ে কর্মীদের ঢুকিয়ে রেখে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির কর্মীসমর্থকরা। এমনই এক টালমাটাল পরিস্থিতিতে কালনায় বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদার প্রচারে নামলেও তা সুখের হল না!
রবিবার কালনার সুভাষপল্লিতে প্রার্থী আসতেই তাঁকে ঘিরে ‘গো ব্যাক, ও ‘দূর হঠো’ শ্লোগান দিতে থাকেন দলেরই কর্মীসমর্থকরা। এমনই এক অস্বস্তিকর অবস্থায় কোনওরকমে এলাকা ছাড়েন প্রার্থী। শুধু তাই নয়, তাঁর পিছু তাড়া করে শ্লোগান দিতে দেখা যায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। এই নিয়ে প্রার্থী ও সভানেত্রীর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। যদিও বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য সৌরভ রায় বলেন, “বহিরাগত প্রার্থীর হয়ে আমরা কেউই ভোট প্রচারে নামব না। কালনা বিধানসভা এলাকার যেকোনও কার্যকর্তাকে প্রার্থী করা হোক এই দাবি রয়েছে আমাদের। তা আমরা জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। এদিন দলেরই কর্মীসমর্থকরা প্রার্থীকে দেখে গো ব্যাক, দূর হঠো শ্লোগান দেন। সাধারণ মানুষজনও সামিল হন ক্ষোভ বিক্ষোভে।”
