নন্দীগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র করের বাড়ির সামনে বিজেপি কর্মীদের 'চোর চোর' স্লোগান দেওয়ার ঘঠনায় চাঞ্চল্য। পালটা গেরুয়া শিবিরকে আয়নায় নিজেদের মুখ দেখার পরামর্শ দিয়েছেন পবিত্র। রবিবার দুপুরে বয়াল ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পবিত্রর বাড়ির সামনে দিয়ে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে একটি মিছিল যাচ্ছিল। সেই সময় তৃণমূল প্রার্থীর উদ্দেশে 'চোর চোর' স্লোগান ওঠে। পাশাপাশি উদ্দাম নাচ ও উল্লাস করতে থাকেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। জানা গিয়েছে, সেই সময়ে পবিত্র নিজের বাড়িতেই ছিলেন। এই বিষয়ে পালটা শুভেন্দুকে 'চোর' বলে আক্রমণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, ছাব্বিশের নির্বাচনে (WB Assembly Election 2026) নন্দীগ্রাম আসনে ৩০ হাজার ভোটে হারবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর বলেন, "মানুষ প্রকৃত ভূমিপুত্রকে নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচন করে বিধানসভায় পাঠাতে চাইছে। তাই আমার বিপক্ষে যিনি (শুভেন্দু) রয়েছেন, তাঁর ব্যাপারে আমার বিশেষ কিছু বলার নেই। আমি কতটা সৎ, স্বচ্ছ এবং সততার সঙ্গে জীবন কাটাই তা এলাকার মানুষ জানে। চুরি, দুর্নীতির সঙ্গে আমি জড়িত নই। কাউকে চোর বলার আগে ওঁরা নিজেদের মুখটা আয়নায় দেখে নিক। ৩০ হাজারের বেশি ভোটে নন্দীগ্রাম আসনে আমরাই জয়লাভ করব। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ।"
নন্দীগ্রাম তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির সদস্য শেখ সুফিয়ান বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী সারদা কাণ্ডের কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন, এটা প্রমাণিত। নন্দীগ্রামে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রচুর টাকা তুলেছেন। কন্টাই, ঘাটাল ব্যাঙ্কে চাকরি দিয়ে টাকা নিয়েছেন। এরকম 'চোর'-এর অনুগামীদের মুখে এসব কথা মানায় না। ৩০ হাজার ভোটে শুভেন্দুকে হারাব। তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত করে দেব।"
এক সময় রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন পবিত্র। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে তিনি পদ্ম শিবিরে যোগদান করেন। তার কয়েকদিনের মধ্যে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান শুভেন্দু অধিকারী। এরপর একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসন থেকে জিতে বিধায়ক হন তিনি। এই জয়ের পিছনে পবিত্রর বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পবিত্র দলের সর্বভারতীয়ে সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। এই যোগদান পর্বের পরে তাঁকেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয় শাসকদল।
