রাজ্যে দ্বিতীয় দফা অর্থাৎ শেষ দফার নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আগে আরও কড়া অবস্থান নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বোমা প্রস্তুতকারীদের গ্রেপ্তার করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে বঙ্গে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে এই নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, বোমা তৈরির মামলা-সহ এই ধরনের সমস্ত মামলার তদন্ত করবে এনআইএ।
রবিবারই ভাঙড়ের উত্তর কাশীপুর থানার অন্তর্গত ছেলে গোয়ালিয়া এলাকায় তৃণমূল কর্মীর বাড়ির পিছনের আমবাগান থেকে ১০০টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগের তির আইএসএফের দিকে। পালটা ভয়ের বাতাবরণ তৈরির অভিযোগে শাসকদলকে দুষছে নওশাদের দল। সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। খবর দেওয়া হয় বম্ব স্কোয়াডে। উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করেন তারা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নির্বাচন কমিশনের তরফে বোমা তৈরি সংক্রান্ত মামলার তদন্তভার এনআইএ-কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি বোমা প্রস্তুতকারীদের গ্রেপ্তার করতে রাজ্য পুলিশকে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত অভিযান চালানো হচ্ছে। এনআইএ ভাঙড় এলাকার ওই বোমা উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার নির্বাচনের পর রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এবার ১৪২ কেন্দ্রকে পাখির চোখ করে পুলিশ ও বাহিনীকে আসন ধরে ধরে কর্তব্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে সম্পন্ন হয় কমিশনের ‘কো-অর্ডিনেশন’ বৈঠক। কমিশন জানায়, অশান্তি এড়াতে এবার প্রতি কেন্দ্রের অলিগলিতে ঘুরবে বাহিনী। ১৬০ বাইকে ২ জন করে জওয়ান ঘুরবেন পাড়ায় পাড়ায়। কোথায় কত কুইক রেসপন্স টিম, কোথায় কত বাহিনী, পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিনের বৈঠকে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দেয় কমিশন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে যাতে কোনও খামতি না থাকে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় পুলিশ-বাহিনী। পাশাপাশি দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে শুধুমাত্র বুথে নয়, বুথে আসা-যাওয়ার রাস্তাতেও সিসিটিভি লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এছাড়াও ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
