কেউ বাড়িতে গিয়ে রান্না করছেন। কেউ ভোটারের গোঁফ কেটে দিচ্ছেন। আবার ভোটারের পা ধুইয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আর এবার টালির বাড়িতে লাগা আগুন নেভাতে দৌড়লেন তিন দলের প্রার্থীই। হাওড়ার বালির রাধানাথ ব্যানার্জী লেন ভোটের (West Bengal Assembly Election) মুখে এমনই ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী। টালির বাড়িতে আগুন লাগাতে সেখানে দৌড়ে গেলেন তিন দলের প্রার্থী। যা নিয়ে চলছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
শুক্রবার রাতে বালির রাধানাথ ব্যানার্জি লেনে একটি টালির বাড়িতে হঠাৎই বিধ্বংসী আগুন লেগে যায়। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি আশেপাশে ঘর থেকে লোকজন বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। খবর পাওয়ামাত্রই এলাকাবাসী দৌড়ে যান। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দু'টি ইঞ্জিনও। স্থানীয়দের সাহায্য়ে বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কীভাবে ওই টালির বাড়িতে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখছে দমকল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে দৌড়ে যান তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র, বিজেপির সঞ্জয় সিং এবং সিপিএম প্রার্থী শংকর মৈত্র। তাঁরা সকলেই আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান।
তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র বলেন, "রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ খবর পাই। দৌড়ে আসি। আমরা সকলে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। ভগবানের কৃপায় কারও প্রাণ যায়নি। মানুষ ভালো না থাকলে, বেঁচে কি লাভ? তাই খবর পাওয়ামাত্রই আমরা সকলে ঝাঁপিয়ে পড়ি। যাঁদের ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের পাশে আমাদের থাকতে হবে।" আবার বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিং বলেন, "আমাদের কার্যকতার ভাইয়ের বাড়িতে আগুন লাগে। আমরা খবর পাওয়ামাত্রই আসি। দমকল ৪০-৪৫ মিনিট পরে এসেছে। সাধারণ মানুষ অনেকটা সাহায্য় করেছেন। রাজনীতির বিষয় নয়। মানুষের পাশে মানুষকে দাঁড়াতেই হবে।"
বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন সিপিএম প্রার্থী শংকর মৈত্রও। বলেন, "দমকল এবং স্থানীয়রা সবাই মিলে আগুন নিভিয়েছে। কারও তেমন বড় কোনও ক্ষতি হয়নি। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই। মানুষ বিপদে পড়লে পাশে সকলেই থাকবেন।" ভোট যেন বড় বালাই। ভবিষ্যতে কত কাজেরই না প্রতিশ্রুতি দেন বিভিন্ন দলের নেতারা। ভোট মেটার পর কিছু আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়। আবার কিছু আশ্বাস ভুলেই যান নেতারা। তা নিয়ে নাগরিক ক্ষোভ জমা হতে থাকে। তবে ভোটের মুখে তিন প্রার্থীর দৌড়ে আসা নিয়ে চলছে জোর চর্চা।
