ভোটের মুখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে! শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) হাত ধরে ক্যানিংয়ের একাধিক তৃণমূল কর্মী, স্থানীয় নেতা বিজেপিতে যোগ দিলেন। 'স্বচ্ছ্ব' তৃণমূল কর্মীদের দলে নেওয়া হল বলে এদিন জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আজ, মঙ্গলবার বিজেপির সল্টলেকের অফিসে ক্যানিংয়ের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি, অঞ্চল সভাপতি, পঞ্চায়েত প্রধান থেকে স্থানীয় নেতারা দলবদল করলেন। কিন্তু কেন 'স্বচ্ছ্ব' তৃণমূল কর্মী বলে উল্লেখ করলেন শুভেন্দু? রাজনৈতিক মহলের মতামত, ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে তৃণমূলের কর্মীদের দলে নিলে বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে কোন্দল দেখা দিতে পারে। ভোটের মুখে দলের আভ্যন্তরীণ সমস্যা বাড়তে পারে? সেই আশঙ্কাতেই 'স্বচ্ছ' তৃণমূল কর্মী বলে উল্লেখ করলেন বিরোধী দলনেতা!
ভোটের আবহে দলবদল দেখা যাচ্ছে বাংলায়। কংগ্রেস, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ঘটনা দেখা যাচ্ছে। আজ, মঙ্গলবার বিজেপির দপ্তরে দলবদল হল। কোনও বড় মুখ নয়, তৃণমূলের একাধিক সাংগঠনিক নেতা-কর্মী এদিন দলবদল করে বিজেপিতে গেলেন। দলের পতাকা তুলে দেওয়ার আগে শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের 'স্বচ্ছ' বলে দাবি করলেন। তৃণমূল কর্মী-নেতাদের একটা বড় অংশ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে। সেই অভিযোগ বারবার করেন শুভেন্দু-সহ বঙ্গ বিজেপি। এদিকে ভোট ময়দানে তৃণমূল ছেড়ে আসা লোকজনই বিজেপির দলীয় পতাকা হাতে নিলেন!
সেই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তৃণমূলে থেকে যারা কাজের সুযোগ পাচ্ছিলেন না, দলের মধ্যেই কোণঠাসা ছিলেন, দুর্নীতি-সহ অন্যান্য অভিযোগে যারা বিদ্ধ নন, তেমন কর্মী-সমর্থকরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। শুভেন্দু, সুকান্ত মজুমদার-সহ একাধিক নেতার সঙ্গে এইসব লোকজন যোগাযোগ করছিলেন বলে খবর। শেষপর্যন্ত এই 'স্বচ্ছ্ব' তৃণমূল কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দিলেন। এদিন গোসাবা ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের একাধিক নেতৃত্ব দলবদল করলেন। গোসাবা ব্লকে তৃণমূল যাতে ভোট না পায়, সুন্দরবন এলাকাও যাতে পর্যুদস্ত হয়, সেজন্যই এই যোগদান বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গোসাবায় বড় জনসভা হবে বলেও শুভেন্দু জানিয়েছেন।
দিলীপ-শুভেন্দু একে অপরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন উপস্থিত ছিলেন। তবে এদিন দিলীপ ঘোষের নাম শুভেন্দু উল্লেখ করেননি। তাহলে কি দিলীপের সঙ্গে কেউ দলবদল বিষয়ে যোগাযোগ করেননি? নাকি শুভেন্দু বলতে চাননি? সেই প্রশ্ন উঠেছে। এই দলবদলে বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে যাতে ক্ষোভ না ছড়ায়, সেজন্যই 'স্বচ্ছ্ব' তৃণমূল এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
