পুরুলিয়ায় গোষ্ঠী কোন্দলে জেরবার বিজেপি! এবার বলরামপুর বিধানসভায় মনোনয়ন দিলেন দলেরই বিক্ষুব্ধ নেতা বিকাশ গোপ। সোমবার শেষ দিনে বিজেপির নেতা-কর্মী-সমর্থক-সহ হিন্দু প্রচারকদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন পেশ করেন তিনি। সাংসদের নাম না করে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ওই বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, "বিজেপিতে অনাচার চলছে। একজন মানুষ ভীষণ অহংকারী। কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন না। যা খুশি তাই করছেন। পুরুলিয়া শহরের রাঁচি রোডে তাঁর চামচের দোকান রয়েছে। সেখান থেকে চামচ কিনলেই বিজেপি নেতা হওয়া যায়। এর বিরুদ্ধেই আমাদের প্রতিবাদ। সেই কারণেই বলরামপুরের সমস্ত বিজেপির কর্মীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি একটা চেহারা মাত্র।"
মনোনয়ন পর্বে দেখা যায় তাঁর সঙ্গে রয়েছেন হিন্দু প্রচারক গোপীনাথ গোস্বামী। বিকাশ গোপের দাবি, বলরামপুর বিধানসভার সমস্ত বিজেপি নেতা-কর্মী- সমর্থক তাঁকে চাইছেন। তাঁর জয় নিশ্চিত। মনোনয়ন শেষে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, 'আমার সঙ্গে বলরামপুরের ৯০ শতাংশ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা রয়েছেন। যাঁরা একেবারে বিক্ষুব্ধ। রয়েছেন সমস্ত হিন্দু সংগঠন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই হবে। দলের ভেতরে শত্রুদের ও দলের বাইরের শত্রুদের সঙ্গে লড়াই করে আমি জিতব।'
বিকাশের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় পুরুলিয়া জেলা বিজেপি শিবির। এই বিষয়ে পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও দলের জেলা সভাপতি শংকর মাহাতোকে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিছুদিন আগেই বলরামপুরের বিজেপি নেতা-কর্মীরা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর সঙ্গে তৃণমূলের সেটিং রয়েছে সেই কারণেই এমন প্রার্থী করা হল বলরামপুরে। বিকাশ গোপের অভিযোগ, প্রার্থী জলধর মাহাতোকে বলরামপুর বিধানসভা এলাকার মানুষ চেনেন না। সাংসদের অনুগামী হওয়াতেই তিনি এই প্রার্থী পদ পেয়েছেন।
