দ্বিতীয় দফার ভোটে বাংলার নিরাপত্তারক্ষার দায়িত্বে প্রায় আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে কমিশন। সেই সিআইএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধেই উঠল নাবালিকা নিগ্রহের অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোলের কুলটি থানার সাঁকতোরিয়া ফাঁড়ির কাছে তুমুল উত্তেজনা। অভিযুক্ত সিআইএসএফ জওয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে সাঁকতোরিয়া ফাঁড়ির পুলিশ। সোমবার তাকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হবে। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা।
রবিবার দুপুরে শীতলপুর লালবাজার সিআইএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় ১০ বছরের এক নাবালিকা ও তার ৫ বছরের এক সঙ্গী আম কুড়োতে গিয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে কর্মরত সিআইএসএফ জওয়ান রমাকান্ত বিশ্বকর্মা মিষ্টি আম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বছর দশেকের নাবালিকাকে নিজের কোয়ার্টারে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলেই অভিযোগ। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে নাবালিকা। বাড়ি গিয়ে ঠাকুমাকে বিষয়টি জানায়। নাবালিকার পরিবার কুলটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ামাত্রই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃণমূল নেতৃত্ব রবিবার রাতে শীতলপুর তিন নম্বর গেটের কাছে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাঁকতোরিয়া ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
তৃণমূল নেতা চন্দন আচার্য ও আইএনটিটিইউসি নেতা রতন মসি জানান যে, "পুলিশি তৎপরতায় ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।" জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জওয়ানকে ইতিমধ্যেই সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষ সাসপেন্ড করেছে। অভিযুক্ত রমাকান্ত বিশ্বকর্মাকে আসানসোল আদালতে তোলা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্র সরকার যে বাহিনীর উপর ভরসা করে বাংলায় নির্বাচন পরিচালনা করছে, সেই বাহিনীর সদস্যেরই এমন আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক। রাজ্য পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।
