দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল হাওড়া। শেষ রবিবারের প্রচারে তৃণমূল-বিজেপির তুমুল সংঘর্ষে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয় বিবদমান দু'পক্ষকে সরাতে। বিজেপির সাংসদ-অভিনেতা রবি কিষাণের রোড শো চলাকালীন লিলুয়ার বামনগাছিতে মুখোমুখি চলে আসে তৃণমূল ও বিজেপির মিছিল। সেখান থেকে 'জয় বাংলা'র পালটা 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান দেন কর্মী, সমর্থকরা। তা নিয়েই ঝামেলা শুরু হয়। এরপর লাঠি, বাঁশ দিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করেব বলে অভিযোগ ওঠে। জখম হন ৪ জন। পরিস্থিতি মুহূর্তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। লাঠিচার্জ করে তা সামলায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
অশান্তি দমনে লাঠিচার্জ কেন্দ্রীয় বাহিনীর। নিজস্ব ছবি
রবিবার দুপুরে হাওড়া উত্তরের বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাইয়ের সমর্থনে মিছিল বেরিয়েছিল। লিলুয়ার বামনগাছি এলাকায় রোড র্যালি করছিলেন গোরক্ষপুরের বিজেপি সাংসদ তথা ভোজপুরী সিনে ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় রবি কিষান। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই সময় বি রোডের অরবিন্দ স্কুলের কাছে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তৃণমূল সমর্থকরা বিজেপির মিছিল লক্ষ করে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিতে শুরু করে। বিজেপির মিছিল থেকেও পালটা 'জয় শ্রীরাম'ও 'চোর চোর' বলে চিৎকার করা হয়। এরপরেই দু’পক্ষের মধ্যে প্রথম তর্কাতর্কি, পরে ব্যাপক হাতাহাতি বেঁধে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মিছিলে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ান ও পুলিশ বাহিনী বেধড়ক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। তাতে দু'পক্ষের কর্মী, সমর্থকরা পিছু হটেন। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজন তাঁদের লাঠি, বাঁশ দিয়ে আক্রমণ করে। যদিও তৃণমূলের দাবি, বিজেপির লোকজনই মিছিল থেকে লাঠি, রড নিয়ে দলের কর্মীদের বিনা কারণে আক্রমণ করেছে। দু’দলের এই গোলমালের ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের সমর্থকদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মেরেছে। তাতে ৪ জন সমর্থক জখম হয়েছে।
