দিন ১। ম্যাচ ২। দু'টো ম্যাচ মিলিয়ে উঠল ৯৮৬ রান। এল দু'খানা সেঞ্চুরি, চারটে টিম মিলিয়ে আটটা হাফসেঞ্চুরি। এ যেন রানের ভুবন। আর মজার কথা হল সেই রানের ভুবনে একই দিনে চারবার হাত বদল হল আইপিএলের কমলা টুপির।
শনিবার দুপুরে দিল্লি ক্যাপিটালস বনাম পাঞ্জাব কিংস ম্যাচে দেড়শো করলেন কে এল রাহুল। রানের স্বর্গে উঠে একাধিক রেকর্ড গড়লেন তিনি। রাতে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে বিস্ময় বাড়ালেন বিস্ময় প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। কিন্তু তার পরেও রাহুল-বৈভবকে দুঃখের প্রতিমূর্তি হিসেবেই থেকে যেতে হল! কারণ রাহুল এবং সূর্যবংশী দুজনের দলই হারল। দুপুরে ২৬৫ রান তুলেও হারে দিল্লি। আর রাতে রাজস্থান হারে ২২৮ রান তুলে।
জশপ্রীত বুমরাহ থেকে ট্রেন্ট বোল্ট-বিশ্বত্রাস বোলারদের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকানোয় হাত পাকিয়ে ফেলেছে বৈভব। শনিবাসরীয় জয়পুরে সেই তালিকায় নাম তুললেন প্যাট কামিন্স। রাজস্থান রয়্যালস ম্যাচ দিয়েই আইপিএলে প্রত্যাবর্তন হল অস্ট্রেলীয় মহাতারকার। প্রথমবার কামিন্সের ডেলিভারির মুখোমুখি হয়েই বল গ্যালারিতে পাঠাল বৈভব। তার আগে প্রথম ওভারেই প্রফুল্ল হিঙ্গেকে টানা চারবার গ্যালারিতে ফেলল। পুরো সময়টাই এমন খুনে মেজাজে ব্যাট করে গেল বছর পনেরের এই ওপেনার। পনেরো বলে হাফ সেঞ্চুরি, তিন অঙ্কে পৌঁছাল ৩৬ বলে। গত বছর নিজের প্রথম সেঞ্চুরিতে প্রতিযোগিতায় কোনও ভারতীয়ের দ্রুততম শতরানের রেকর্ড গড়েছিল বৈভব, ৩৫ বলে। এদিন নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির ক্ষেত্রে একটা বল বেশি নিল। তার ১০৩ রানের ইনিংস সাজানো ছিল পাঁচটা চার এবং এক ডজন ছক্কায়। স্ট্রাইক রেট পৌনে তিনশোর বেশি। এদিন তার ব্যাটে ভর করেই ২২৮-৬ স্কোর করে রাজস্থান। কিন্তু প্রতিপক্ষের পাহাড়প্রমাণ রানটা ৯ বল হাতে রেখেই করে ফেলল সানরাইজার্স। ট্রাভিস হেড (৬) ফের ব্যর্থ। তবে দ্বিতীয় উইকেটে মোটামুটি ৯ ওভারে ১৩২ রান যোগ করে জয়ের ভিতটা গড়ে দেন অভিষেক শর্মা (২৯ বলে ৫৭) এবং ঈশান কিষান (৩১ বলে ৭৪)।
মজার কথা হচ্ছে এদিনের শুরুতে আইপিএলের সর্বোচ্চ রানের খেতাব অর্থাৎ কমলা টুপির মালিকানা ছিল বিরাট কোহলির হাতে। ৭ ম্যাচে ৩২৭ রান করেছেন তিনি। দুপুরে দেড়শো করে সেই রানটা টপকে যান কে এল রাহুল। ৭ ম্যাচে তিনি ৩৫৭ করে দেনে। পরে সেঞ্চুরি করে বৈভব সূর্যবংশী আবার রাহুলকে টপকে যায়। সেও অবশ্য ৩৫৭ রানই করে। রাতের সেই ম্যাচেই হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বৈভবকে পিছনে ফেলে দেন অভিষেক শর্মা। এখন কমলা টুপির মালিক তিনিই। অভিষেকের সংগ্রহ ৩৮০ রান। দিনের শুরুতে রানের তালিকায় শীর্ষে থাকা কোহলি দিনের শেষে নেমে গিয়েছেন পাঁচ নম্বরে। চার নম্বরে উঠে এসেছেন হেনরিখ ক্লাসেন।
