রবিবার প্রচারে বিজেপির সাংসদ-অভিনেতা রবি কিষাণের রোড শো চলাকালীন লিলুয়ার বামনগাছিতে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে হাওড়ার পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করা হল। লিলুয়া থানার ওসি কল্যাণ খামুড়াই, এসআই (ইউবি) সুমন রায়কে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। সুমনকে সাঁকরাইলের নাজিরগঞ্জ থানার ওসি পদে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে লিলুয়া থানরা ওসি পদে আনা হয়েছে সুজয় তুঙ্গকে। এছাড়াও বেলুড় থানার আইসিকেও বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় সিআইডির পুলিশ ইন্সপেক্টর দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়কে বেলুড় থানার আইসি পদে আনা হয়েছে। নাজিরগঞ্জ থানার ওসি মনোজ সরকারকে বদলি করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরে হাওড়া উত্তরের বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাইয়ের সমর্থনে মিছিল বেরিয়েছিল। লিলুয়ার বামনগাছি এলাকায় রোড র্যালি করছিলেন গোরক্ষপুরের বিজেপি সাংসদ তথা ভোজপুরী সিনে ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় রবি কিষাণ। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই সময় বি রোডের অরবিন্দ স্কুলের কাছে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তৃণমূল সমর্থকরা বিজেপির মিছিল লক্ষ করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করে। বিজেপির মিছিল থেকেও পালটা ‘জয় শ্রীরাম’ও ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করা হয়। এরপরেই দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি, পরে ব্যাপক হাতাহাতি বেঁধে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মিছিলে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ান ও পুলিশ বাহিনী বেধড়ক লাঠিচার্জ করে।বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজন তাঁদের লাঠি, বাঁশ দিয়ে আক্রমণ করে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের ৪ জন সমর্থক জখম হয়েছেন। এই ঘটনার জেরেই লিলুয়ার থানায় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন।
২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় বা শেষ দফার ভোট (West Bengal Elections 2026) রয়েছে। প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। সেই কারণে শেষ মুহূর্তেও রদবদল জারি রেখেছে কমিশন।
