প্রার্থী অসন্তোষ ঘিরে তুলকালাম। বিধান ভবনে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দপ্তরে তুমুল বিক্ষোভ। বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে বচসা-হাতাহাতি। পুলিশের সামনেই চলে ধস্তাধস্তি। বহিরাগত প্রার্থী বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ। রডের বাড়িতে মাথা ফাটল এক কংগ্রেস কর্মীর। রাস্তায় বসে চলে স্লোগান।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, যুব কংগ্রেসের নেতা কাশিফ রেজার বিরুদ্ধে গন্ডগোল পাকানোর অভিযোগ কংগ্রেস কর্মীদের একাংশের। অভিযোগ, এই কাশিফই নাকি লোক পাঠিয়ে বিধান ভবনে কংগ্রেস কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছেন। বুধবার কার্যত রক্তারক্তি কাণ্ড বিধান ভবনে। কাশিফ রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন জাহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, জাহিদ হোসেন বালিগঞ্জের টিকিটের দাবিদার। কিন্তু সোমেন মিত্রের ছেলে রোহন মিত্রকে ওই আসনের টিকিট দিয়েছে হাতশিবির। দু'দিন আগেও এই ইস্যুতে প্রায় ১০ জন কংগ্রেস কর্মী এসে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কংগ্রেসের সদর দপ্তরে। আজ সেই বিক্ষোভই চরম আকার নিল। কংগ্রেসের দু'পক্ষের হাতাহাতিতে মাথা ফাটে এক কংগ্রেস কর্মীর। কংগ্রেসের মহিলা কর্মীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে। বিধান ভবনে পুলিশ গেলেও পরিস্থিতি নাগালে আসেনি। পুলিশের সামনেই চলে বচসা-ধস্তাধস্তি। ধস্তাধস্তিতে অজ্ঞান হয়ে যান এক মহিলা কর্মী। তুমুল বিক্ষোভের মাঝেই রাস্তায় বসে পড়েন আক্রান্ত কংগ্রেস কর্মীরা। 'যাঁরা হামলা চালিয়েছে, তাঁদের গ্রেফতার করুন', এই দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। এন্টালি থানার পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
শুধু জাহিদ হোসেন নয়, বুধবার বিভিন্ন জেলার হাতশিবিরের প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভের আঁচ এসে পড়ে বিধান ভবনে। রবিবার দীর্ঘ টালবাহানার পর রাজ্যের ২৮৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে কংগ্রেস। আর সোমবার থেকেই বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে চলে আসে দলের গোষ্ঠীকোন্দল। আমতা, বাগনান, শ্যামপুর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, উলুবেড়িয়া পূর্ব সহ একাধিক আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের চারবারের বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস রাজনীতিবিদ অসিত মিত্রও এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও মন্তেশ্বর, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর ও খণ্ডঘোষ আসনে প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের কারণে পূর্ব বর্ধমান জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি মূল গেটের তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ‘বহিরাগত’ প্রার্থী বদলানোর দাবিতে ফালাকাটা ব্লক কংগ্রেস কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা।
