shono
Advertisement
West Bengal Assembly Election

বিরোধী বৈচিত্র আনতে বাজি অধীর-মৌসম-ভিক্টর-শুভঙ্কররা, কংগ্রেসের লক্ষ্য ১০ আসন!

শুভেন্দু এবার জিতে এলেও অধীরের মতো মুখ বিধানসভায় থাকলে বিরোধী দল হিসাবে একা প্রচারের আলো কেড়ে নিতে পারবেন না। তাতে কংগ্রেস দল আবার প্রাসঙ্গিক হবে।
Published By: Subhankar PatraPosted: 08:59 AM Apr 09, 2026Updated: 09:37 AM Apr 09, 2026

বঙ্গে একা লড়াইয়ের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এআইসিসি প্রদেশ নেতৃত্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিল মূল শত্রু বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই বিধানসভার অলিন্দেরও হিসাব কষে ফেলা হয়। কোথায় ভাল লড়াই দিয়ে আসন জয় সম্ভব, তারও রিপোর্ট নেতৃত্বের দাবি, ১০-১২টি আসন পাওয়ার জায়গায় রয়েছে। সেই অনুযায়ী তৈরি হয় রিপোর্টও।

Advertisement

পাঁচ বছরে রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রচারের আলোয় উঠে এসেছিলেন। 'অভব্য' আচরণের অভিযোগে বারবার সাসপেন্ডও হতে হয়েছে তাঁকে। অভিযোগ, কারণ যাই থাক, তাতে বিজেপির রাজনৈতিক লাভও হয়েছে। এই বিষয়টিকে মাথায় রাখার পাশাপাশি বিধানসভায় দলের শূন্যের গেরো কাটাতে বাংলায় নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনকে টার্গেট করে এগোতে চেয়েছে এআইসিসি। তখনই জানানো হয় সর্বশক্তিতে একলা লড়াইয়ে ২৯৪ আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে। দলের সব সিনিয়র এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব লড়াইয়ে নামবেন। তাতে ভোট শতাংশ তো বটেই, আসন জয়ের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সমীক্ষায় মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর, বীরভূমের মতো জেলাগুলিকে 'ফোকাস' করে নামার সিদ্ধান্ত হয়। দলের একাংশের দাবি, এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে ১০টি আসন না হলেও অন্তত ৩-৪টি আসনে নিশ্চিত জয় সম্ভব।

তখনই ঠিক হয় অধীর চৌধুরী, মৌসম নুর, নেপাল মাহাতো, মনোজ চক্রবর্তী, আলি ইমরান রামজ (ভিক্টর)-দের মতো প্রাক্তন সাংসদ-বিধায়ক-সহ দলের সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব তো বটেই, সঙ্গে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, মোহিত সেনগুপ্ত, অমল আচার্য, মিল্টন রশিদের মতো পরিচিত মুখ, অতীতে লড়াই দিয়ে দলকে ভাল জায়গায় এনেছিলেন, এমনকী, প্রাক্তন আরও একাধিক বিধায়ককে লড়াইয়ে ময়দানে নামানো।

সমীক্ষায় মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর, বীরভূমের মতো জেলাগুলিকে 'ফোকাস' করে নামার সিদ্ধান্ত হয়। দলের একাংশের দাবি, এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে ১০টি আসন না হলেও অন্তত ৩-৪টি আসনে নিশ্চিত জয় সম্ভব। অধীর চৌধুরির শিবির আবার সেক্ষেত্রে প্রাক্তন সাংসদকে সেই লড়াইয়ে এগিয়ে রেখেছে। তাতে শুভেন্দু এবার জিতে এলেও অধীরের মতো মুখ বিধানসভায় থাকলে বিরোধী দল হিসাবে একা প্রচারের আলো কেড়ে নিতে পারবেন না। তাতে কংগ্রেস দল আবার প্রাসঙ্গিক হবে।

আরও একাধিক মত রয়েছে। অধীর, মৌসম, নেপাল মাহাতো, মনোজ চক্রবর্তী, শুভঙ্কর, ভিক্টরের মতো মুখ বিধানসভায় থাকলে রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির গৈরিকীকরণ রোখা যাবে। বিধানসভার অলিন্দে 'একঘেয়ে অযৌক্তিক বিরোধিতা'-ও বন্ধ হবে, রাজনীতির বৈচিত্রে কংগ্রেসও খাতা খুলবে। বিরোধিতারও স্বাদ বদল হবে।

তবে প্রদেশের এক শীর্ষ নেতার দাবি, "দিল্লির কাছে যে ১০-১২ আসনের রিপোর্ট গিয়েছে, তা চট করে মেনে নেওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে বড়জোর ৫ আসনের দাবি মেনে নেওয়া যায়। আর তার বেশি আসনে জয়ের সম্ভাবনা যদি তৈরিও হয়, তাতে উলটে বিজেপিরই লাভ।” ওই নেতার দাবি, সেক্ষেত্রে আরও বেশি আসন পেয়ে বিরোধী দল হিসাবে বড় জয় পেয়ে যেতে পারে গেরুয়া শিবির। ব্যাখ্যায় দলের সেই অংশের বক্তব্য, মনে রাখতে হবে, কংগ্রেসের শক্তির বড় অংশ সংখ্যালঘু ভোট। সেই ভোট ভাগ হয়ে গেলে লাভ হবে বিজেপির। কারণ এর একটা বড় অংশের সমর্থক তৃণমূলের ভোট। আরেকটি অংশ সামান্য হলেও বাম সমর্থক। এখন দেখার বিষয় কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিক হওয়ার এই চেষ্টা কতটা দাগ ফেলতে পারে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement