shono
Advertisement
West Bengal Assembly Election

শূন্যের গেরো কাটাতে বামেদের ভরসা 'তরুণ' বিমানই, রোড শো-মিছিলের আকর্ষণই ফ্রন্ট চেয়ারম্যান

টানা ২৮ বছর ধরে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন সিপিএমের এই প্রবীণ নেতা। যা বামফ্রন্টের ইতিহাসে নজিরবিহীনও বটে। বামফ্রন্ট গঠনের পর থেকে আর কোনও নেতাকে এত বেশি দিন এই পদে দেখা যায়নি।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 08:58 AM Apr 14, 2026Updated: 08:58 AM Apr 14, 2026

বামেদের শূন্যের কাটাতে গেরো এখনও অন্যতম ভরসার নাম বিমান বসুই। বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের প্রার্থীরাও চাইছেন অন্তত একবার আসুন 'বিমান-দা'। আর তাই স্বমহিমায় এবারও ময়দানে নেমেছেন ৮৬ বছরের 'তরুণ' বিমান।

Advertisement

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনও বামেদের কাছে কঠিন লড়াই। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হয়নি। আইএসএফকে সঙ্গী করে লড়ছে বামফ্রন্ট। ফল খারাপ হলে, শূন্যের গেরো না কাটলে দলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়বে। যা ভবিষ্যতে পার্টির পক্ষে খারাপ। কাজেই সিপিএম কোনওদিকে খামতি রাখতে চাইছে না। কর্মীদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামাতে হয়েছে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত সেই মানুষটাকে। কর্মীদের চাঙ্গা ও উজ্জীবিত করতে ভোটপ্রচারে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ৮৬ বছর বয়সেও মিছিলের প্রথম সারিতে দেখা যাচ্ছে বিমান বসুকে। যদিও নিজেই স্বীকার করেছেন, আগের মতো পুরোটা হাঁটা সম্ভব হয় না, তবুও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ তিনি। সিপিএমের অন্য যে কোনও নেতার থেকে পার্টিতে শুধু নয়, শরিকদের মধ্যেও বিমান বসুর জনপ্রিয়তার ধারেকাছে কেউ নেই। তাই তিনিই যেন এখনও বামফ্রন্টের 'তারকা' প্রচারক।

টানা ২৮ বছর ধরে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন সিপিএমের এই প্রবীণ নেতা। যা বামফ্রন্টের ইতিহাসে নজিরবিহীনও বটে। বামফ্রন্ট গঠনের পর থেকে আর কোনও নেতাকে এত বেশি দিন এই পদে দেখা যায়নি। রাজ্যের বামপন্থী রাজনীতির 'পিতামহ ভীষ্ম' তিনি। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান শৈলেন দাশগুপ্ত প্রয়াত হলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিমানকে। এরপর ২০০৬ সালে তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাস প্রয়াত হওয়ার পর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে পড়েছিল। ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিমান একা হাতেই ফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও পার্টির রাজ্য সম্পাদক, এই দুই দায়িত্বই সামলেছিলেন। তারপর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের পদে আসেন সূর্যকান্ত মিশ্র। তখন থেকে বিমান আবার এককভাবে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা থেকে আরও নানা বিষয় সামলাতে হয় তাঁকেই। আর শরিকদলের নেতারাও মানেন বিমানকেই।

কোথায় কোথায় কর্মিসভা বা মিছিল করে ভোটপ্রচারে অংশ নিচ্ছেন বিমান বসু? যেখানে বামেদের ভালো অবস্থা, তৃণমূলের সঙ্গে ভালো লড়াই দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানেই প্রচারে যাচ্ছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। এই নির্বাচন বামেদের কাছে চ্যালেঞ্জের। সেই পরিস্থিতিতে আসন বুঝে অল আউট ঝাঁপিয়েছে বামফ্রন্ট। গুরুত্বপূর্ণ আসনে কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে ও রণকৌশল সাজাতে বিমান বসুর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় কর্মিসভাও করছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। সোমবার জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী ভরতরাম তিওয়ারির সমর্থনে প্রচারে ছিলেন বিমান। এর আগে যাদবপুরে বিকাশ ভট্টাচার্যর সমর্থনে মিছিলে হেঁটেছেন। আবার রবিবার বরানগরে করেছেন রোড-শো। কাশীপুর-বেলগাছিয়া গিয়েছিলেন। যাদবপুর, বরানগর ও কাশীপুরে বিমান বসুকে ঘিরে ছিল উচ্ছ্বাস। কর্মীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে উদ্দীপনার ছবি। দীপ্সিতা ধর, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচারেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অনেকেই চাইছেন প্রবীণ এই নেতাকে গরমে বেশি ধকল না দিতে। তবে প্রচারে থাকতে যে তাঁর কোনও সমস্যা নেই, তিনি ফিট তা জানিয়ে দিয়েছেন বিমান। আর তাই ভোট ময়দানে নেমেও পড়েছেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement