একসময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'বুর্জোয়া কবি' আখ্যা দিয়েছিল বামেরা। সেসব দিন দূর অতীত। বাংলা সংস্কৃতিতে কবিগুরুর অবদান যে অসীম, এমনকী রাজনীতির ময়দানেও, ভোটবঙ্গে ফের তার নমুনা মিলছে। রবীন্দ্রনাথ সৃষ্ট 'সহজপাঠ' এখন সিপিএমের ভোটপ্রচারের হাতিয়ার। সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির ফেসবুক পেজে 'ভোটের সহজপাঠ' শিরোনামে একাধিক ছড়া ও ছবি পোস্ট করা হয়েছে। 'সহজপাঠ'-এর ছড়ার ছন্দকে অনুকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নন্দলাল বসুর অঙ্কনশৈলীর অনুকরণে ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। এককথায় সহজপাঠের অনুকরণ করে দলীয় স্লোগান তুলে ধরেছে সিপিএম।
সহজপাঠের আদলেই ছড়া ও ছবি বামেদের ডিজিটাল প্রচারে। ছবি: জয়ন্ত দাস
দেখা গিয়েছে, ওই পোস্টগুলিতে 'সহজপাঠ'-এর ছন্দে বিভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রের নীতির সমালোচনাও রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি লাইনে 'চাকরি', 'শিল্প', 'স্বাস্থ্য ব্যবস্থা' ইত্যাদি প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। আবার নাম না করে নরেন্দ্র মোদির সরকারকেও নিশানা করা হয়েছে। এনিয়ে ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বামেদের নতুন 'সহজপাঠ' তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছেন। আবার কেউ মনে করছেন, সহজপাঠকে রাজনীতির ময়দানে এনে মোটেই ঠিক করেনি বামেরা।
তৃণমূল সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের নেতা সঞ্জয় সাহার কথায়, “এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যাবে। বাঙালির সংস্কৃতি ও আবেগকে অপমান করা হয়েছে।” কাটোয়ার তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, "সহজপাঠ শিশুদের প্রথম পাঠ্যপুস্তক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটিকে বিকৃত করা মানে কবিগুরুকেই অসম্মান করা।" বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষের বক্তব্য, "বামেরা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। তাই তারা এ ধরনের কৌশল নিচ্ছে।" যদিও সিপিএমের যুক্তি অন্য। দলের জেলা কমিটির সম্পাদক সৈয়দ হোসেনের দাবি, "আমরা কোনও কিছু বিকৃত করিনি। সহজপাঠের ভাষার ছড়ার অনুকরণে রাজনৈতিক প্রচার করেছি মাত্র। এটাকে বিকৃত বলা ঠিক নয়।” তর্কবিতর্ক যাই থাক, ডিজিটাল প্রচারে ভালোই সাড়া পাচ্ছে সিপিএমের নতুন 'সহজপাঠ'।
