কুলটির পর হুগলির হরিপাল (Haripal)। নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধে। ওই জওয়ানকে পাকড়াও করে স্থানীয় বাসিন্দারা। গাছে বেঁধে রাখা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে হরিপাল থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল প্রার্থী-সহ কর্মী-সমর্থকরা। জওয়ানের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে সরব তাঁরা।
জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা হুগলির হরিপালের বন্দিপুর গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার সন্ধ্য়ায় টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল সে। অভিযোগ, সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান তার হাত ধরে টানে। নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেই অভিযোগ। উত্তেজিত গ্রামবাসী জওয়ানকে ঘিরে ধরে। গাছে বেঁধে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই হরিপালের তৃণমূল প্রার্থী করবী মান্না ঘটনাস্থলে পৌঁছন। যান তাঁর অনুগামীরাও।
অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেপ্তারির দাবিতে থানার সামনে বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ তড়িঘড়ি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে উদ্ধার করে। সেই সময় পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। হরিপালের তৃণমূল প্রার্থী করবী মান্না বলেন, "যাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব বাংলায় এসে বাংলার মেয়েদের অত্যাচার করবে মেনে নেওয়া যাবে না। অবশ্যই সিআরপিএফের শাস্তি চাই।" যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বলে রাখা ভালো, এর আগে কুলটির শীতলপুর লালবাজার সিআইএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় নাবালিকার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ১০ বছরের এক নাবালিকা ও তার ৫ বছরের এক সঙ্গী আম কুড়োতে গিয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে কর্মরত সিআইএসএফ জওয়ান রমাকান্ত বিশ্বকর্মা মিষ্টি আম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বছর দশেকের নাবালিকাকে নিজের কোয়ার্টারে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলেই অভিযোগ। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে নাবালিকা। বাড়ি গিয়ে ঠাকুমাকে বিষয়টি জানায়। নাবালিকার পরিবার কুলটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ামাত্রই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃণমূল নেতৃত্ব শীতলপুর তিন নম্বর গেটের কাছে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাঁকতোরিয়া ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে। জওয়ানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
