চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)। দলীয় অনুষ্ঠানের কোনও মঞ্চে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদির ব্রিগেডের (Narendra Modi Brigade Rally) মঞ্চে দিলীপ ঘোষ। ফের স্বমেজাজে দেখা গেল তাঁকে। 'দাবাং' নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শাসক শিবিরকে একহাত নেন।
শনিবাসরীয় দুপুরে গোলাপি রঙের কুর্তা পরে মোদির মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। সাংসদ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে মঞ্চে স্বাগত জানান। হাসিমুখে মঞ্চে ওঠেন। সকলকে প্রণাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, "সরকার যতদিন থাকবে গরিব মানুষের উন্নতি হবে না। চাকরি, যাতায়াত, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঠিক হবে না। গ্রামেগঞ্জে মোদি সরকার সব দিচ্ছেন। কিন্তু সব চুরি হয়ে যাচ্ছে। গ্রামবাংলার খেটে খাওয়া মানুষগুলির আবাস যোজনা, পানীয় জলের টাকা চুরি হয়েছে। গ্যাস ও রেশনের টাকা চুরি হয়েছে। চুরি বন্ধ করতে হলে পরিবর্তন করতে হবে।" বাংলায় নারীসুরক্ষাও নেই বলেই অভিযোগ দিলীপ ঘোষের। বাংলার পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য শেষের সময় হেলিকপ্টারে চড়ে মোদি পৌঁছন রেসকোর্সে। তাঁকে স্বাগত জানান দিলীপ।
উল্লেখ্য, বঙ্গ বিজেপির সভাপতি থাকাকালীন মোদির সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছে দিলীপ ঘোষের। কিন্তু রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব ছাড়ার পর সেভাবে আর প্রধানমন্ত্রীর সভায় দেখা যায়নি তাঁকে। এরপর আবার একাধিক বিষয় নিয়ে বঙ্গ বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় মোদির সভাতেও ডাকা হত না দিলীপকে। 'শাহী' টনিকে বিজেপিতে ফের প্রাসঙ্গিক হন দিলীপ। শাহের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর দলের কর্মসূচিতে দেখা যেত তাঁকে। সল্টলেকে রাজ্য পার্টি অফিসেও প্রায় নিয়মিত যাতায়াত করছেন তিনি। এমনকী ময়দানে নেমে জনসংযোগের কাজও শুরু করে দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির ‘দাবাং’ নেতা।
যদিও মালদহ ও সিঙ্গুরে মোদির সভামঞ্চে অবশ্য বঙ্গ বিজেপির অন্যতম মুখ দিলীপকে রাখা হয়নি। যদিও দলের আদি কর্মীরা চেয়েছিলেন সভায় প্রাক্তন সাংসদ যেন থাকেন। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। শুধু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিঙ্গুরের সভা শেষে ফেরার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে উপস্থিত থাকবেন দিলীপ ঘোষ। সেই মতো কলকাতা বিমানবন্দরে ছিলেন তিনি। কথাও হয় সেই সময়। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডের সভায় দেখা গেল দিলীপকে।
