আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বুথ লেভেল অফিসারদের ভূমিকা আরও সুসংহত করতে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে জারি হওয়া এই নির্দেশে ভোটের আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত বিএলওদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পূর্ববর্তী একাধিক নির্দেশিকার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই দায়িত্ব পালনে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ বিতরণে। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক বিএলও-কে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে এই স্লিপ তুলে দিতে হবে। ভোটের অন্তত পাঁচ দিন আগে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে। স্লিপ সরাসরি ভোটার বা তাঁর পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক কোনও সদস্যের হাতে দিতে হবে-একসঙ্গে বা বাল্কে বিলি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিরপেক্ষতা বজায় রাখাও বাধ্যতামূলক, কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিএলও-র বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, বুথে পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বিএলওদের সক্রিয় ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা, ক্যামেরার সঠিক অবস্থান, আলো-বাতাসের উপযুক্ত পরিবেশ-সবকিছুর দেখভাল করতে হবে বিএলও ও সেক্টর অফিসারদের। বিশেষ করে ভোটকক্ষের ভিতরে অতিরিক্ত আলো যাতে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ তাতে ভিভিপ্যাট যন্ত্রে ত্রুটি দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ভোটের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের দিন ভোটারদের সুবিধার্থে প্রতিটি বুথে থাকবে ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’। সেখানে বিএলও-সহ নির্দিষ্ট কর্মীরা উপস্থিত থেকে ভোটারদের নাম খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন। ইংরেজি বর্ণানুক্রমে প্রস্তুত তালিকা ব্যবহার করে সহজেই নিজের নাম খুঁজে নিতে পারবেন ভোটাররা।
তবে ভোটের দিন আর কোনও ভিআইএস বিতরণ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে। মহিলা ভোটারদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। যেখানে পর্দানশীন মহিলার সংখ্যা বেশি, সেখানে তাঁদের শনাক্তকরণের জন্য মহিলা কর্মী নিয়োগের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিএলওদের ওই দিন অন্য কোনও কাজে না লাগিয়ে বুথের প্রবেশপথে বসিয়ে ভোটার চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুরুষ বিএলও-র সঙ্গে মহিলা কর্মী এবং তার উল্টোটাও রাখা হবে। নির্দেশিকাস্পষ্ট বার্তা এই সমস্ত নির্দেশ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ পালন করতে হবে। কোথাও গাফিলতি ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও মজবুত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে নির্বাচন মহল।
