কমিশনের কড়াকড়িতে বঙ্গভোটের (WB Assembly Election 2026) প্রথম দফা কেটেছে নির্বিঘ্নে। বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফা। দক্ষিণবঙ্গের মোট ৭ জেলার ১৪২ আসন ভোটগ্রহণ। এখানকার বেশ কয়েকটি কেন্দ্র স্পর্শকাতর, রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত। তাই দ্বিতীয় দফা নির্বিঘ্নে সুসম্পন্ন করতে আরও কড়া দাওয়াই দিল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার প্রত্যেক জেলা ও পুলিশ কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিজ্ঞপ্তি। তাতে স্পষ্ট নির্দেশ, ভোটারদের ভয় দেখালেই কড়া 'অ্যাকশন' নিতে হবে পুলিশকে, দরকারে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত বা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে হবে। ইতিমধ্যে সোমবার রাত পর্যন্ত ৮০৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সবমিলিয়ে দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে এখনও পর্যন্ত ২৩০০ জনকে জালে আনল পুলিশ।
দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে কোথাও কোথাও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। জগদ্দল, ভাটপাড়ায় বোমাবাজি, বিজেপি প্রার্থী আক্রান্ত, আরামবাগ, গোঘাটে তৃণমূল সাংসদের উপর হামলার মতো অভিযোগ এসেছে কমিশনের দপ্তরে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও ভোটের আগে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। ভোটের দিন, বুধবার যাতে এমন কিছুই না ঘটে, তার জন্য আরও কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করতে নির্বাচন কমিশন কয়েকদফা নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করেছে। ৭২ ঘণ্টা আগে-পরে তা কার্যকর করতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম -
- দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে অপরাধদমনে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ
- ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করতে চাইলে বা ভয় দেখালে 'জিরো টলারেন্স'
- 'সাইলেন্ট পিরিয়ড' অর্থাৎ শেষ ৪৮ ঘণ্টায় কড়া নজরদারি
- প্রতি ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করতে হবে
অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে নিউটাউনে খোলা হল কেন্দ্র বাহিনী কন্ট্রোল রুম। যেখানে বিভিন্ন ধাপে অফিসারদের আলাদা করে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে কোথাও অশান্তি হলে বা কোথাও থেকে কোনও অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে যাতে বাহিনী পৌঁছে যেতে পারে সেই বিষয় নজরদারি রাখা হবে। পাশাপাশি সোশাল মিডিয়ায় কেউ বা কারা ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তির ভিডিও পোস্ট করছে কিনা, সেদিকে থাকবে সাইবার টিমের নজরদারি।
নিউটাউনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কন্ট্রোল রুম। নিজস্ব ছবি
