বিজেপি–তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পানিহাটি। স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে দুই দলের কর্মী সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, ‘জয় বাংলা’ বলাকে ঘিরে সত্তরোর্ধ এক বৃদ্ধা ও এক প্রতিবন্ধী যুবককে মারধর করেন বিজেপি কর্মীরা। এরপরেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘটনার প্রতিবাদে ঘোলা থানার সামনে বিক্ষোভে নামে তৃণমূল। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানানো হয়। যদিও ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তবে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী।
ঘটনাটি ঘটেছে পানিহাটি পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপল্লী এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সন্ধ্যায় শ্রীপল্লী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চলছিল। প্রচার থেকে লাগাতার ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপি নেতাকর্মীরা। সেই প্রচার চলার মাঝে এক বৃদ্ধা ‘জয় বাংলা’ বলে পালটা স্লোগান দেন। এমনকী পাশে থাকা তৃণমূলের এক প্রতিবন্ধী কর্মীও একই স্লোগান দেন। অভিযোগ, এর পরেই দু’জনকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। এমনকী দলীয় পতাকা লাগানো লাঠি দিয়ে বিজেপি কর্মীরা তাঁদের মারধর করেন বলেও অভিযোগ। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা। যা নিয়ে শ্রীপল্লী এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপক্ষই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। যদিও পরে বিজেপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিতে ঘোলা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল।
তৃণমূলের মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, ''বিজেপির প্রার্থী রত্না দেবনাথ কিছু দুষ্কৃতী নিয়ে প্রচার এসেছিলেন। হঠাৎ করেই স্থানীয় এক বৃদ্ধার উপর চড়াও হন তাঁরা। অপরাধ শুধু বলেছিলেন, জয় বাংলা। আর এই অপরাধে ওই বৃদ্ধাকে মারধর করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে আসেন স্থানীয় প্রতিবন্ধী এক যুবক। তাঁকেও মারধর করা হয়।'' তৃণমূল নেতার কথায়, নারী সুরক্ষা তো ছেড়ে দিন, কোনও সুরক্ষাই এরা দিতে পারবে না। পানিহাটির মানুষ এর জবাব দেবে।
যদিও ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা জয় সাহার দাবি, সমস্তটাই মিথ্যা কথা। ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল, মারধর করা হলে তার ভিডিও প্রকাশ করা হোক।'' শুধুমাত্র বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করতেই মিথ্যা রটনা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতার।
