তিন বছর আল নাসেরের জার্সি গায়ে ঘরোয়া লিগ জিততে পারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। এবার সেই সুযোগ ষোলো আনা। সৌদি প্রো লিগে শীর্ষে রয়েছে সিআর ৭-এর ক্লাব। কিন্তু এই আবহে এবার বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিলেন আল আহলি ক্লাবের ইভান টনি। আল নাসেরর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সরাসরি নাম না করলেও তাঁর অভিযোগ, রোনাল্ডোকে জোর করে ট্রফি জেতানোর চেষ্টা চলছে।
বুধবার আল-ফায়হার বিরুদ্ধে ১-১ ড্রয়ের পরেই ক্ষোভ উগরে দেন টোনি। সেই ম্যাচে নিজের ২৭তম গোল করলেও তাঁর দাবি, দলকে একাধিক পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “দু'টি পেনাল্টি একেবারেই স্পষ্ট ছিল। এর থেকে পরিষ্কার আর কী হতে পারে! আমরা রেফারির সঙ্গে কথা বলতে গেলে উনি আমাদের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মন দিতে বলেন। এটা কীভাবে সম্ভব?”
আসলে এই ড্রয়ের ফলে ৬৬ পয়েন্টেই থেমে থাকতে হয়েছে আল আহলিকে। জিতলে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াত ৬৮। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আল হিলালকে ছুঁয়ে ফেলার পাশাপাশি শীর্ষে থাকা আল নাসেরের সঙ্গে ব্যবধানও কমানো যেত। বর্তমানে আল নাসেরের পয়েন্ট ৭০। তাছাড়া তারা একটি ম্যাচ কম খেলেছে। ফলে শিরোপা দৌড়ে এই ড্র যে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াল আল আহলির জন্য, তা বলাই বাহুল্য। এই প্রসঙ্গেই টনি কটাক্ষের সুরে বলেন, "আমরা কার দলকে তাড়া করছি, সেটা তো সবাই জানে। আপনারা শুনতে চাইলে আমি কারও কথা বলতে পারি। তাতে আমার সমস্যা বাড়তে পারে জানি। কিন্তু আমি মনের কথা বলতে ভালোবাসি। রেফারিকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মন বোধ হয় অন্য কোথাও ছিল।"
শুধু মাঠেই নয়, সোশাল মিডিয়াতেও ক্ষোভ উগরে দেন টনি। তিনটি পেনাল্টি আপিলের ভিডিও শেয়ার করে তিনি লেখেন, "এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এত বড় ভুল দেখতে না পাওয়া বা চোখ বন্ধ করে থাকা অবিশ্বাস্য। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কী প্রভাব কাজ করছে।" এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছেন তাঁর সতীর্থ গালেনো। সরাসরি অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন, "ট্রফিটা একজনের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যেকোনও ভাবে আমাদের ট্রফিজয়ের দৌড় থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে ওরা। এটা আমাদের ক্লাবের প্রতি চরম অসম্মান।" এরপর বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, কার কথা তাঁরা বলতে চেয়েছেন।
এদিকে, পুরো ঘটনার পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আল আহলি। ক্লাবের দাবি, রেফারির একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি, ম্যাচ চলাকালীন রেফারি ও খেলোয়াড়দের মধ্যে হওয়া কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশ করারও দাবি জানানো হয়েছে। যদিও রোনাল্ডো সমর্থকরা এই ঘটনায় চটেছেন। তাঁদের দাবি, অহেতুক সিআর ৭-এর সম্মানহানি করা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, হতাশা থেকে একজন ফুটবলারকে এভাবে আক্রমণ করা ঠিক নয়।
