এসআইআরে নাম বাদ যায়নি, শুরু থেকেই তাঁদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই! তবে খাতায়-কলমে তারা সরকারি কর্মী। যদিও ভোটের সময় তাদের ডিউটি পড়ে। নিরাপত্তায় সদাসতর্ক থাকতে হয়। সরকারি কর্মী হিসেবে সরকারি কোষাগার থেকে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ—সবই আছে। তবুও এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত তারা। ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। ওরা কুনকি হাতি। অভয়ারণ্য ও আশপাশ এলাকায় একসময় তাদের অনেক কাজ ছিল। এখন কাজ যদিও কমে এসেছে। ভোটের সময় তাদের দায়িত্ব পড়ে নজরদারির জন্য। নীরবে সেই কাজ তারা করেও যায়।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম অভয়ারণ্য হল গোরুমারা। সেখানে শিলাবতী, সূর্য, হিলারি, তিস্তারা আছে। ওরা কুনকি হাতি। বছরের পর বছর ধরে সরকারি কর্মী হিসবে তাদের নাম আছে। কোষাগার থেকে অর্থও বরাদ্দ থাকে। ভোটের সময় দায়িত্বও সামলাতে হয়। কিন্তু ভোটের সময় তো পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। ভোটকর্মীরাও বুথে বুথে দায়িত্বে থাকেন। তাহলে কুনকি হাতিদের উপর কোন কাজের ভার দেওয়া হয়?
জানা গিয়েছে, পানঝোড়া, রামসাই, বামনডাঙা, টুঙ্গু-সহ আশপাশ এলাকা ঘন জঙ্গলের কাছেই। এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই ভোটকেন্দ্রে জঙ্গলের রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন। ভোটের দিন যাতে গণ্ডার, বাইসন, লেপার্ড, হাতি- বন্য জন্তু বাইরে এসে হামলা চালাতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন জায়গায় নজরদারিও চলে। আর এই নজরদারিতেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এউ কুনকি হাতিরা। তাঁদের পিঠে উঠে কড়া নজরদারি চালান বনকর্মীরা। বনদপ্তরের কর্মীরা জানিয়েছেন, দিনের বেলা বন্য জন্তুদের হানা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে না। সন্ধে গড়ালে হাতি-বাইসন-লেপার্ড বেরনোর আশঙ্কা থাকে। সেজন্যই কুনকি হাতিদের সঙ্গে নিয়ে নজরদারি চলে। সাধারণ মানুষ, ভোটকর্মী থেকে ভোটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছে কুনকিরা।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে ৩১টি কুনকি হাতি গোরুমারায় রয়েছে। এবারও তাদের ভোটের ডিউটি পড়বে। এমন সম্ভাবনার কথা মনে করা হচ্ছে। বনকর্মীরাও প্রস্তুত রয়েছেন। এই বিষয়ে গোরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও রাজীব দে জানিয়েছেন, নির্বাচন বিষয়ে এখনও বনদপ্তরের কাছে কোনও নির্দেশ এখনও আসেনি। তবে এলাকায় রুটিন নজরদারি চলছে। বনকর্মীরাও প্রস্তুত আছেন।
